Ultimate magazine theme for WordPress.

শোক দিবস নিয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা , প্রশাসনিক দপ্তরে অভিযোগ শিক্ষক কাদেরের

0
৮৭ Views

 

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

জাতীয় শোক দিবস নিয়ে কটূক্তি ও প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত সহকারী শিক্ষক আব্দুল কাদের ও রোজিনা বেগমের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে গত ২৩আগস্ট মামলা করেন সভাপতি সোহেল রানা। এ মামলাকে মিথ্যা ও হয়রানি মূলক দাবি করে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন গোপালপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আব্দুল কাদের বিএসসি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউপির গোপালপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৫আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে স্কুলে অনুপস্থিত থাকার সুযোগে পুর্ব শত্রুতার জের ধরে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি সোহেল রানা বিজ্ঞ আদালতে ৫০০/৩৪ ধারায় মিথ্যা ও হয়রানি মূলক মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জকে সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদনের নির্দেশ দেন। সে নির্দেশনা মোতাবেক গত ২৬আগস্ট অফিসার ইনচার্জ সরেজমিনে তদন্ত করে মামলার স্বাক্ষীর মোকাবেলায় মামলার বিষয়ে কোন সত্যতা মেলেনি। অপরদিকে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন অবসরে গেলে অতি গোপনে সভাপতি তার মনোনীত জুনিয়র শিক্ষক ফাতেমা ইয়াসমিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেন। সাব রেজিস্টার ইসমাইল হোসেন টুকুর সহধর্মিনী জুনিয়র শিক্ষক ফাতেমা ইয়াসমিন স্ব-পরিবারে ঢাকায় ফ্লাট নিয়ে থাকেন। তিনি ইতিপূর্বে বিদ্যালয়ে ৫বছর অনুপস্থিত থাকায় বিভিন্ন মিডিয়ায় তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পাওয়ার পরেও তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। অফিসিয়াল সকল কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন ও সভাপতি সোহেল রানা। সভাপতি প্রভাবশালী হওয়ায় নৈশ প্রহরি আব্দুল গফ্ফারকে চাকরিচ্যুত করেন এবং নৈশ প্রহরির ভাই সেকেন্দার আলীকে লাইব্রেরীয়ান পদে চাকরি দেয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়াও সভাপতির বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ রয়েছে।
গোপালপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও এলাকাবাসী মকবুল হোসেন, আবুল কাশেম, জাহাঙ্গীর আলম মেম্বার, আমিনুল ইসলাম ও একরামুল হক বলেন, সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল কাদের দীর্ঘ ৩৭বছর ধরে সুনামের সাথে অত্র প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে আসছেন। বল্লভপুর বকশির খামার গ্রাম কমিটির সভাপতি ও তিনি একজন শিক্ষানুরাগী আদর্শবান ব্যাক্তি। তিনি জন্মগতভাবে একজন আওয়ামীলীগ পরিবারের সন্তান এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে আওয়ামী লীগ করে আসছেন। এডহক কমিটির সভাপতি সোহেল রানা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে আব্দুল কাদের মাস্টারের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলা করে মান সম্মান ক্ষুন্ন ও হয়রানি করেছেন। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্ত করে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হোক।
আওয়ামীলীগ নেতা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তফা জামান, সন্তোষপুর ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী লাকু, জেলা পরিষদ সদস্য লাভলী বেগম, সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হোসেন ফাকুসহ অনেকে বলেন, এডহক কমিটির সভাপতি সোহেল রানা এবং সাবেক প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন যোগসাজশ করে কাদের বিএসসির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। কাদের বিএসসি একজন খুবই ভাল মানুষ এবং তিনি আওয়ামীলীগ করেন তিনি এমন ভুল কখনোই করতে পারে না। এটা ষড়যন্ত্র মাত্র।

অভিযোগকারী শিক্ষক আব্দুল কাদের বিএসসি বলেন, আমি সিনিয়র সহকারী শিক্ষক হিসেবে যাতে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব না পেতে পারি এবং পুর্ব শত্রুতার জের ধরে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন সভাপতি। আসলে এটা একদম মিথ্যা মামলা আমাকে হয়রানি করার জন্য এমনটা করছেন। বিদ্যালয় কমিটি কোন নোটিশ না দেয়ায় জাতীয় শোক দিবসের দিন আমি সংসদ সদস্য আসলাম হোসেন সওদাগরের ডাকে উপজেলা পৌর আওয়ামী লীগের প্রোগ্রামে বঙ্গবন্ধুর শোক দিবস পালন করি। তারা এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দেয়। আমি এই মিথ্যা মামলার বাদীর শাস্তি দাবী করছি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.