Ultimate magazine theme for WordPress.

নদীর পানি বেড়ে আবাদী ফসল নষ্ট হওয়ায় বিপাকে কৃষক।

0
৭৭ Views

 

বগুড়া জেলা প্রতিনিধি :

বগুড়ার শাজাহানপুরে জামালপুর এলাকায় করতোয়া নদীর দুপাশে বিগত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে প্রায় ৩০০ বীঘা জমির আগাম শীতকালীন সবজি ও রোপা আমন ধানের জমি তলিয়ে গেছে।
উপজেলার কৃষকদের দাবি, এতে তাদের প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
আড়িয়া ইউনিয়ন জামালপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, করতোয়া নদী দুপাশে গড়ে ওঠা আগাম শীতকালীন ফসল জমি পানিতে নিমজ্জিত।
স্থানীয় কৃষক মাসুম মিয়া ও তার দুই সন্তান নিয়ে পানিতে ডুবে যাওয়া ফুল কপি গাছ তুলে গরুকে খাওয়া জন্য বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ পানি ডুবে যাওয়া ফসলের গাছ তুলে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন।
কৃষকরা বলছেন, অতিবৃষ্টি ও দীর্ঘ সময় ধরে বৈরী আবহাওয়া অনেক কষ্টে আবাদ করা ফসল, করতোয়া নদী পানি বৃদ্ধিতে তলিয়ে গেছে । আবাদ করতে গিয়ে বাকীতে আবার অনেকেই চড়া সুদে ঋণ নিয়েছেন। সরকাররি প্রনোদনা না পেলে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে তাদের বেগ পেতে হবে।
জামালপুর গ্রামের সবজি চাষি মাসুম মিয়া জানিয়েছেন, তিনি এ বছর প্রায় চার বিঘা জমিতে করল্লা, কপি, শিম, শশা এবং ঝিঙ্গা চাষ করেছেন। টানা বৃষ্টিতে অর্ধেক ফসল তলিয়ে গিয়েছিল। গত (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে ভারি বর্ষণে তার সবগুলো সবজি ক্ষেত পনিতে তলিয়ে গেছে।
একই এলাকার সবজি চাষি নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভারি বর্ষণে করতোয়া নদী উপচে এর দু’ধারে থাকা কয়েকশ বিঘা জমির শীতকালীন আগাম সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে তার নিজের সাড়ে তিন বিঘা জমিতে চাষ করা কপি, শিম ও শশা এবং প্রতিবেশি আব্দুল হান্নানের আড়াই বিঘা শশা, দেড় বিঘা কপি, ৫ বিঘা করল্লা তলিয়ে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টানা বর্ষণে আড়িয়া ইউনিয়নের জামালপুর, আড়িয়া পালপাড়া, সাজাপুর চকপাড়া, খলিশাকান্দি, ঘাষিড়া ডোগলাপাড়া এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া অতি বৃষ্টি ও বাঙ্গালী নদীর পানি বৃদ্ধিতে আমরুল, চোপীনগর ও খোট্রপাড়া ইউনিয়নের নিম্ন অঞ্চলগুলোর কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে আলম জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে আর্থিক সহায়তা জন্য প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। ফসল ক্ষতির বিপরীতে কোন বরাদ্দ পাওয়া গেলে তা যথা সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.