Crime News tv 24
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৮ আগস্ট ২০২৫
  1. অন্যন্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. খেলা
  5. জাতীয়
  6. দেশজুড়ে
  7. ধর্ম
  8. ফিচার
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. মতামত
  12. রাজনীতি
  13. রান্না
  14. রাশিফল
  15. লাইফস্টাইল
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিরাজগঞ্জে অসহায় শাহীদার জীবন বদলে গেল।

Link Copied!

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের কালিয়া কান্দাপাড়া গ্রামের শাহীদা খাতুন দীর্ঘ ছয় বছর ধরে পলিথিনে মোড়ানো ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছিলেন। স্বামী ও ছেলেকে হারিয়ে বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে ও ছোট নাতিকে নিয়ে চলছিল অতি কষ্টের সংসার। ঝড়ে ঘর ভেঙে যাওয়ার পর প্লাস্টিক দিয়ে মাথার ওপর ছাউনি তৈরি করে দিন কাটছিল। শেষ পর্যন্ত এক ফেসবুক পোস্ট বদলে দিল তার জীবন।

 

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস শাহীদার অবস্থা নিজ চোখে দেখে বিষয়টি ফেসবুকে শেয়ার করেন। এরপর দেশ বিদেশের অসংখ্য মানুষ এগিয়ে আসেন এবং অনুদান পাঠান। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই তার হাতে পৌঁছায় ৯৯ হাজার টাকা। সেই অর্থ দিয়েই মামুন বিশ্বাস নির্মাণ করে দেন নতুন একটি ঘর, সঙ্গে একটি টয়লেট। শুধু তাই নয়, বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নতুন ঘরে তুলে দেওয়ার পাশাপাশি শাহীদার জন্য দেওয়া হয় দুই বস্তা চাল, ডাল, মুরগি, তোষক, চাদর, বালিশ, জামাকাপড়সহ প্রয়োজনীয় সব সামগ্রী।

নতুন ঘরে উঠেই আবেগাপ্লুত শাহীদা খাতুন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি অনেক খুশি। ৬টি বছর কাগজের ঘরে শুইয়া থাকলাম। বৃষ্টি নামছে, পানি পড়েছে। অনেক কষ্ট করছি। সারারাত বৃষ্টির পানি ফেলেছি। এখন মামুন বিশ্বাস আমাকে ঘর দিয়েছে, যাবতীয় সব কিছু দিয়েছে। আমি অনেক খুশি। অনেকদিন শান্তি করে ঘুমায়নি। আজ থেকে শান্তিতে ঘুমাতে পারব।

 

প্রতিবেশী মোছা. জনেকা খাতুন জানান, শাহীদা খাতুনের কষ্ট ছিল অসহনীয়। প্রায়ই তিনি কাঁদতে কাঁদতে প্রতিবেশীদের কাছে যেতেন, কিন্তু বাস্তবে তেমন সহযোগিতা পাননি। অবশেষে নতুন ঘর ও প্রয়োজনীয় সবকিছু পেয়েছে। তার খুশিতে আমরাও খুশি

সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি গণমাধ্যমে শাহীদা খালার খারাপ অবস্থা দেখে সরেজমিনে দেখতে আসি। এরপর ফেসবুকে পোস্ট দিলে ৯৯ হাজার টাকা আসে। সেই টাকা দিয়ে তাকে ঘর তুলে দেওয়ার পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় সকল প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পলিথিনের ছাউনি দেওয়া ভাঙাচোরা ঘরে বৃষ্টি আর ঝড়ের সঙ্গে লড়াই করে কেটেছে শাহীদার দীর্ঘ ছয় বছর। সরকারি কোনো সহায়তা বা ভাতা না পেয়ে কখনো দিনমজুরি, কখনো মানুষের দানেই চলতো জীবন। এখন নতুন ঘরে বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে তারাবানু ও নাতি আরমানকে নিয়ে নিশ্চিন্তে বসবাসের সুযোগ পেলেন তিনি।