Ultimate magazine theme for WordPress.

মাদারীপুর জেলার গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জদের সাথে আলোচনা সভা।

0
২০১ Views

রাকিব হাসান, মাদারীপুর

আজ ২৪শে জানুয়ারী ২০২১ তারিখে মাদারীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মোহাম্মদ মাহবুব হাসান, পুলিশ সুপার এর সভাপতিত্বে মাদারীপুর জেলার সকল থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জদের সাথে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জঙ্গি দমন, ধর্ষন, ইভটিজিং, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, শীতকালিন চুরি-ডাকাতি, কিশোর গ্যাং, মাদক উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা, বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার, গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিল, স্পর্শকাতর মামলা সমূহের অগ্রগতি, জেলার গোয়েন্দা কার্যক্রম সহ নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করা হয় । উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন মোঃ আব্দুল হান্নান, অতিঃ পুলিশ সুপার(প্রশাসন ও অপরাধ), জনাব চাইলাউ মারমা, অতিঃ পুলিশ সুপার(ডিএসবি), জনাব মনিরুজ্জামান ফকির পিপিএম, অতিঃ পুলিশ সুপার(সদর), জনাব আবির হোসেন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার(শিবচর সার্কেল), মাদারীপুর।উক্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন
, অতিঃ পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান,(প্রশাসন ও অপরাধ) মাদক ও সন্ত্রাস বতর্মানে মানব সভ্যতার জন্য দুটি ভয়াবহ অভিশাপ। সম্পর্কের দিক থেকে এরা পরস্পরের অনষঙ্গী ও পরিপূরক । মাদকদ্রব্য গ্রহনের ফলে মানুষের স্নায়ুতন্ত্র,জৈবরাসায়নিক ব্যবস্থা, আচরণ ও চিন্তন প্রক্রিয়া এবং অঙ্গপ্রতঙ্গের উপর যে বিচিত্র ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সংঘটিত হয়-ঔদ্ধত্য, উত্তেজনা ,মারমূখীতা, জিঘাংসা, ধর্ষণকামীতা, খুনে মনোভাব, ইত্যাদি।একজন মাদকাসক্তের মধ্যে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা সাধারণ মানুষের তুলনায় কয়েকগুন বেশী। বিশ্বের বড় বড় সন্ত্রসী চক্রগুলো বড় ধরনের হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের অভিযানে পাঠানোর আগেও তাদের হত্যা মিশনের সদস্যদের এ জাতীয় মাদক সেবন করিয়ে দেয়। অনেক সন্ত্রাসী ও দাগী অপরাধী অপরাধ সংগঠন কালে আবেগের দূর্বলতা ও বিবেকের তাড়না দূর করার জন্যও এ জাতীয় মাদক সেবন করে থাকে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন,
মাদক কেবল ব্যক্তি বিশেষের অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি করে না। মাদক আসক্ত হবার পর মাদক গ্রহনের নির্দিষ্ট সময়ে যখন নেশাকারীর শরীরে মাদকের “বেরা” বা প্রত্যাহারজনিত প্রতিক্রিয়া শুরু হয় তখন মাদকাসক্ত ব্যক্তি তার নেশার মাদকের গ্রহণের জন্য বেপরোয়া ও মরিয়া হয়ে উঠে। স্বাভাবিক উপায়ে নেশার টাকা যোগাড় করতে না পারলে অতি ভদ্র পরিবারের সন্তানও ছিনতাই বা ডাকাতির আশ্রয় নেয় । আমাদের দেশে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণ হত্যা, ইত্যাদি মারাত্মক সামাজিক অপরাধ ও সন্ত্রসাী কার্যকলাপের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে এ সব ঘটনার একটি উল্লেখযোগ্য অংশের নেপথ্যে ছিল নেশার টাকা যোগাড় করার পেষণা। এ কারণে যে সব পাড়ায় বা মহল্লায় মাদকাসক্তি বেশী, সে সব পাড়ায় বা মহল্লায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অপহরণের মত অপরাধ ও সন্ত্রসী কার্যকলাপের হারও বেশী।
নেশায় আসক্তি সৃষ্টি, নেশাগ্রস্ত হওয়া, কিংবা হাতের কাছে নেশার মাদক না পাওয়ার জন্য মাদকের প্রত্যাহারজনিত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি সব ক্ষেত্রেই ব্যক্তির বুদ্ধি, বিবেক ও মনুষ্যত্ববোধ লোপ পায়।নেশার অর্থ যোগাড়ের জন্য বহু অভিজাত সম্রান্ত ঘরের মেয়েকে দেহ বিক্রি করতে দেখা যায় এ বাংলাদেশই। নেশার টাকা যোগাড়ের জন্য পাষন্ড স্বামী তার স্ত্রীকে একদল নরপশুর হাতে তুলে দিয়েছে এমন ঘটনার নজির রয়েছে আমাদের সমাজে।
বাংলাদেশের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়ার পায়তা করে বাংলাদেশে মাদকের ছয়লাভ ঘটায় একটি মহল। আর এই যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাচাঁতে গোটা দেশব্যাপী চলছে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান।

Leave A Reply

Your email address will not be published.