Ultimate magazine theme for WordPress.

খুলনায় আলোচিত মফিজুল হত্যা মামলায় ১জনের মৃত্যুদন্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন প্রদান করেন আদালত

0
৭৩ Views

মহিদুল ইসলাম(শাহীন) খুলনা সংবাদদাতা :
দীর্ঘ ১০বছর পর খুলনা খালিশপুর প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল স্কুলের ছাত্র মফিজুল ইসলাম বাপ্পিকে (১৬) পিটিয়ে হত্যা মামলায় এক আসামীকে মৃত্যুদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৫ আসামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত। এছাড়া অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় বাকী দুই আসামীকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস এম আশিকুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যু দন্ডপ্রাপ্ত আসামী হলেন, প্লাটিনাম জুবিলি জুট মিল এলাকার মান্নানের পুত্র রকি এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী হলেন, একই এলাকার আ: মান্নানের পুত্র মো: নজরুল, নিছার ওরফে আনছার আলীর পুত্র মিলন, মোমরেজের পুত্র রবিউল, নিছার ওরফে আনছার আলীর পুত্র মিলন, আজিজুর রহমান হাওলাদারের পুত্র মুজিব হাওলাদার ও আবু সাঈদের পুত্র আল-আমিন। খালাস প্রাপ্ত আসামী হলেন, একই এলাকার আনসার আলীর পুত্র ইব্রাহিম ওরফে বাহাদুর এবং মৃত শামসুল হকের পুত্র হাসান ।
এরআগে, উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে এহত্যা মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন এপিপি এ্যাড. কাজী সাব্বির আহম্মেদ এবং তাকে সহযোগীতায় ছিলেন, এপিপি এড. শামীম আহমেদ পলাশ ও এপিপি এড. রেহানা পারভিন। এবং আসামী পক্ষে ছিলেন যুকিত তর্ক উপস্থাপন করেন এড. নিরঞ্জন কুমার ঘোষ।
এহত্যা মামলায় চার্জশীটভুক্ত ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। ওই সময় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস মোহাম্মদ আলীর আদালতে আসামী রকি ও নজরুল ঘটনার বিবরণী দিয়ে এহত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তিনি অন্যান্য আসামীদের জড়িত থাকার বিবরণ দেন।
আদালতের এপিপি এ্যাড. কাজী সাব্বির আহম্মেদ জানান, মঙ্গলবার, বুধবার ও সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামী পক্ষর আর্গুমেন্ট শেষে এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালের ১০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় প্লাটিনাম স্কুল মাঠে স্কুল ছাত্র বাপ্পি ও তার বন্ধু রাজু একসাথে বসে গল্প করছিলো। ওই সময় পূর্বশত্রুতার জের ধরে হকিস্টিক ও লোহার রড নিয়ে বন্ধু রাজুকে মারতে আসে আসামীরা। তখন বাপ্পি বন্ধু রাজুকে বাঁচানোর জন্য ঠেকাতে আসলে আসামীরা বাপ্পির মাথায় হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করে। বাপ্পি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এই সুযোগে বন্ধু রাজু পালিয়ে যায়। এরপর আসামীরা তাকে এলোপাতাড়িভাবে মারতে থাকে। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসারত ডা: মো: ইসমাইল শেখ ও ডা: সহদেব কুমার দাসের কাছে মৃত্যুকালীণ জবানবন্দী দেয় ভিকটিম বাপ্পি। অতঃপর ওই দিন রাত ১১টা ৫ মিনিটে বাপ্পি মারা যায়। এঘটনার পরদিন নিহতের বড় ভাই হাফিজুর রহমান খালিশপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন যার নং-১১। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ৩১ মার্চ খালিশপুর থানায় আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল। ২০১৪ সালের ২ জানুয়ারি এ হত্যা মামলাটির চার্জ গঠন করা হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.