Ultimate magazine theme for WordPress.

“দ্রব্যমূল্যে অগ্নিতাপঃ জনমনে ক্ষোভের বিরাজ করছে”

0
৫৬ Views

 

নিজস্ব প্রতিনিধি।।

সম্প্রতি দ্রব্য মূল্যের লাগামহীন পাগলা ঘোড়া জনমনে চরম নাভিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। অামাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ ই সল্পঅায়ের। খেটে খাওয়া এসব সাধারন মানুষ দ্রব্য মুল্যের উধ্বগতির কারনে অায়ের সাথে ব্যায়ের সঙ্গতি রাখতে পারছে না। প্রথমমত নানা ধরনের সমস্যায় জর্জরিত জীবন,তারপর অাবার দ্রব্যমূল্যের উধ্বগতি এ যেন মড়ার ওপর খাড়ার ঘা।

সম্প্রতি লাগাম ছাড়া মুল্যে গুনতে হচ্ছে প্রায় সব পন্যের জন্য। অালু থেকে শুরু করে ডিম পর্যন্ত সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

বাজারে সবজি সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী যথেষ্ট থাকার পরও ব্যাবসায়ীদের কারসাজির কারনে ক্রয় করতে হচ্ছে দ্বিগুন দামে।

মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম অাবারও দ্বিগুন হয়ে উঠছে। ২০/২৫ টাকা কেজি মুল্যের অালুর দাম এখন ৫০/৫৫ টাকা।

৮০-৯০ টাকার নিচে মিলছে না কোন সবজি। এমন পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের মধ্য চাপা উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ক্ষোভের রোক্ষানল কিছুটা হলেও ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ইলস্ট্রাগ্রামে।

একজন সাধারন প্রাইভেট টিচার তার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করেছেন, ৫০ টাকার অালুর সাথে ২৫০ টাকার কাঁচা মরিচ, তার সাথে হিরাতুল্য পিয়াজ মিশিয়ে অালু ভর্তা খাওয়া ও এখন যেন দুঃস্বপ্ন।অালুভর্তাও বর্তমানে ব্যয়বহুল খাবারের তালিকায় চলে যাচ্ছে দিন দিন।

কাঁচা মরিচের মূল্যে ডাবল সেঞ্চুরি হাকিয়ে এবার হ্যাট্রিক এর পথে, ২৫০/২৬০ টাকার কমে মিলছে না কাঁচা মরিচ। এদিকে খুচরা বাজার গুলোতে অালুর দাম প্রায় ৬০ টাকা ছুইছুই। যা কিছু দিন অাগেও ছিলো মাত্র ২২/২৩ টাকা যা একটু বেড়ে হয়েছিলো ৩৫/৪০ টাকা। কিন্তু এবার এক লাফে ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে প্রায়।

সেই সাথে বেড়ে যাচ্ছে চালের দাম ও। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি মিনিকেট চালের দাম ৫৬-৫৮ টাকা যা কয়েকদিন অাগেও ছিলো ৫৩-৫৪ টাকা।২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা যার পুর্বে দাম ছিলো ৪৬ টাকা।স্বর্না জাতের মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫২ টাকা যার পু্র্বে দাম ছিলো ৪০-৪২ টাকা।

এছাড়াও বাড়ানো হয়েছে তেল,মরিচ, পেয়াজ, অাদা, গরম মশলা সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম।

ভোজ্যতেল তথা সয়াবিন তেল’র মুল্য কম্পানি ভেদে ইতিমধ্যে ৫২০ টাকা হয়ে গেছে যা কয়েকদিন অাগেও ৫১৫ টাকা ছিলো।পাম ওয়েল কেজি প্রতি ৯০ টাকা, যার পুর্ববর্তী দাম ৭০ টাকা। অাদার কেজি একমাসের ব্যাবধানে ২৮০ টাকা হয়ে গেছে।

খুচরা বাজারে দেশি পেয়াজ ৯৫-১০০ টাকা। যা একসপ্তাহ অাগেও ছিলো ৮৫-৯০ টাকা। অামদানিকৃত পিয়াজ একসপ্তাহের ব্যবধানে বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়।

নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করতে অাসা এক বেসরকারি চাকরিজীবি বলেন, সামান্য বেতনে চাকরি করি। এমনিতেই টানাপোড়ার সংসার।তারপর অাবার দ্রব্যমুল্যে এত বেশি! এরকম দাম বাড়ার কি কোন যৌক্তিকতা অাছে? শুধু শুধু গরিবের ওপর বোঝা চাপানো ছাড়া অার কিছু নয়।

নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করতে অাসা গৃহিনী নুসরাত বেগম জানায়,অধিকাংশ পণ্যের দর বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু বাজারে তো যথেষ্ট পন্য রয়েছে। তাহলে কার মদদে এই মুল্য বৃদ্ধি তাদের চিন্হিত করে অাইনের অাওতায় হবে।

শিহাব নামের এক ভ্যান চালক বলেন, সারাদিন যা অায় করি তাতে বর্তমান বাজার খরচও হয় না। পেট পুরে খাবো সেটাও মনে হয় কপাল থেকে উঠে যাচ্ছে। সরকারি কোন ঘোষনা ছাড়াই কয়েক দিনে এত মুল্য পরিবর্তন কিভাবে হয়? ব্যবসায়ীরা নিজেদের অাখের গোছানোর জন্য জোট করে নি তো??

দ্রব্যমুল্যে বৃদ্ধির ফলে ক্ষোভ দানা বাধতে শুরু করেছে অামজনতার মনে।

এদিকে ভোক্তাঅধিকার অধিদপ্তর প্রতিনিয়তই তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। জরিমানা /মুচলেকা দেবার পরও কমছে না দ্রব্যমুল্যে।

অনেকেরই দাবি এটি ব্যবসায়ীদের একটি বড় সিন্ডিকেট তাদের কুটচালের ভিত্তিতেই সব কিছুর মুল্য বৃদ্ধি হয়েছে।

অামজনতার মনে প্রশ্ন উঁকি মারছে দ্রুত কি দ্রব্যমুল্যে নিয়ন্ত্রনে অাসবে? ব্যবসায়ীদের এই সম্মিলিত সুক্ষ সিন্ডিকেট কিভাবে প্রতিহত করবে কতৃপক্ষ?

Leave A Reply

Your email address will not be published.