Ultimate magazine theme for WordPress.

বেনাপোলে স্ট্যাম্পের লাগামহীন দামে বিক্রির অভিযোগ “নেই কোন তদারকি”

0
৪৪ Views

 

মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি
তারিখ ১৪।১০।২০২০
বেনাপোল পোর্ট থানাধীন এলাকায় নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ। যে কোনো দলিল নিবন্ধন, চুক্তিপত্র, নোটারি, হলফনামা, বন্ধক নামা,মালামাল খালাস আদেশ,শুল্ক বন্ড,শেয়ার বরাদ্দ, এফিডেভিটসহ বিভিন্ন কাজে স্ট্যাম্প ব্যবহার করা হয়। এর বিনিময়ে ডিডভ্যালু বা চুক্তিমূল্যের ওপর নির্ধারিত হারে রাজস্ব আদায় করে থাকে সরকার।বেনাপোল বাজার ও কাস্টমস্ হাউজের সামনে সরেজমীনে ঘুরে দেখা যায়, ১০০ টাকার স্ট্যাম্প ১৩০ টাকা,৫০ টাকার স্ট্যাম্প ৮০ টাকা, ২০ টাকার রেভিনিউ স্ট্যাম্প বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, দাম কেন বেশি জানতে চাইলে বেনাপোল কাস্টমস্ হাউজের সামনে মেসার্স নুজহাত এন্টারপ্রাইজের মালিক নাজমুল হাসান বিদুৎ জানান স্ট্যাম্পের ভেন্ডর মোঃ সাহেব আলী লাইসেন্স নং ১৭/২০০৩ সে এই দামে বিক্রি করতে বলেছেন তাই স্ট্যাম্পের দাম বেশি,পাশা পাশি ওসমান ফটোষ্ট্যাটের মেসার্স ওসমান স্ট্যাম্প ভেন্ডর বিক্রি করছেন ১০০ টাকার স্ট্যাম্প ১২০ টাকা,৫০ টাকার স্ট্যাম্প বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা,বেনাপোল বাজারে উজ্জল ষ্টুডিওতে স্ট্যাম্প ভেন্ডর মোঃ সাহেব আলীর স্ট্যাম্প বিক্রি করছেন ১০০ টাকার স্ট্যাম্প ১৩০ টাকা,৫০ টাকার স্ট্যাম্প ৮০ টাকা, তাছাড়া ইসলামী ব্যাংকের নিচে,লালমিয়া সুপার মার্কেটের কসমেটিক্স দোকান সহ বিভিন্ন দোকানে এই স্ট্যাম বিক্রি করতে দেখা গেছে যা স্ট্যাম্প ভেন্ডর ছাড়া বিক্রয় করা আইনের পরিপন্থী, বেনাপোলের আমদানী কারক মেসার্স সোমান ট্রেডিং এর মালিক সোমান চক্রবত্তি জানান আমাদানি পন্য ছাড়াতে এবং পন্য রপ্তানী করতে প্রতিদিন বেনাপোল কাস্টমস্ হাউজের বিভিন্ন কাজে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, রেভিনিউ স্ট্যাম্প পেপারের সাথে দাখিল করতে হয় কিন্তু বেনাপোল পৌরসভা এলাকাধীন স্ট্যাম্পের অনেক বেশি দাম যা ক্রয় ক্ষমতার বাইরে, কৃষক মহিউদ্দীন জানান বিভিন্ন সময় জমি বন্ধক নামা লিখতে বেনাপোল থেকে স্ট্যাম্প কিনলে দাম বেশি নেই অথচ শার্শা ভূমি অফিসের সামনে অনেক স্ট্যাম্পের দাম কম। বেনাপোলের স্ট্যাম্প ভেন্ডর মোঃ সাহেব আলী লাইসেন্স নং ১৭/২০০৩ইং তার সাথে মুঠো ফোনে কথা বললে তিনি জানান আমার মাল আমি যা খুশি সে দামে বিক্রি করব কারও ভালো লাগলে নিবে সেটা তার ইচ্ছা, এদিকে বিভিন্ন স্থানে স্ট্যাম্প বিক্রি করার কোন অনুমোদন আছে কি সেটা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন এটা আপনাকে বলতে আমি বাধ্য নই। কিন্তু ১৮৯৯ সালের স্ট্যাম্প আইনে ৭৯টি ধারা এবং ১টি তফসিল রয়েছে। এবং দেশে প্রচালিত ৬৫ রকম দলিল প্রস্তুতুতের জন্য স্ট্যাম্প কিনতে হয় সাধারন জনগনের। এ ছাড়া স্ট্যাম্প কেনাবেচায় নেই কোনো তদারকি। কে বিক্রি করছে, কত বিক্রি করছে, বাজারে চাহিদা কত- এসব দেখভাল করার কোনো সংস্থাও নেই। ফলে দেশে জাল বা নকল রেভিনিউ স্ট্যাম্প ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।স্ট্যাম্প ব্যাপকভাবে নকল হওয়ায় সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। কঠোর আইন না থাকায় ফুলে-ফেঁপে উঠছে একটি বিশেষ সুবিধা গোষ্ঠী। জানা যায়, শুধু রেভিনিউ স্ট্যাম্প নয়, এর সঙ্গে চালান ও পে অর্ডারও নকল হচ্ছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে (১২ ই আগস্ট) ৩ টার সময় বেনাপোল পোর্ট থানাধীন কাস্টমস হাউজের সামনে দীর্ঘদিন যাবত গোপনে জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প বিক্রি করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৬,সিপিসি-৩ যশোর ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার এর নেতৃত্বে একটি অভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে জাল স্ট্যাম্প ও বাংলাদেশ কোর্ট ফি সহ তিন জনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে এবং এমন অভিযান অব্যহত রাখার দাবি জানান সাধারন ক্রেতারা। সারাদেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রায় এক লাখ ভেন্ডর আছেন। ভেন্ডররা তাদের চাহিদা অনুযায়ী চালান জমা দিয়ে যশোর ডিসি অফিস থেকে স্ট্যাম্প সংগ্রহ করে থাকেন। সপ্তাহে বুধ ও রোববার দু’দিন টাকা জমা দেওয়া হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে ডিসি অফিসের ট্রেজারি শাখা থেকে স্ট্যাম্প সরবরাহ করা হয়। বিনিময়ে কমিশন পান ভেন্ডররা। বর্তমানে ৫০ থেকে ১০০ টাকা মূল্যমানের রেভিনিউ স্ট্যাম্পের জন্য প্রতি হাজারে কমিশন ১৫ টাকা। ৫ থেকে ৫০ টাকার জন্য প্রতি হাজারে কমিশন ৩৭ টাকা ৫০ পয়সা আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন নিবন্ধন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্ট্যাম্প বিক্রি (নন-জুডিশিয়াল) বাবদ মোট আদায় হয়েছে ৯ হাজার ৯২৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এর আগের অর্থবছর ১২ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আয় হয়েছে ছয় হাজার ১৮২ কোটি টাকা। এদিকে স্ট্যাম্পের দাম কমানো সহ অতিরিক্ত দামে স্ট্যাম্প বিক্রয়কারী ভেন্ডরদের আইনী পদক্ষেপ সহ বেনাপোল বন্দর এলাকায় একাধিক ভেন্ডর লাইসেন্স দিয়ে স্ট্যাম্প সহজলভ্য করার দাবি জানান বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের ব্যবসায়ীরা।
মোবাইল ০১৭১২৯৪৭৮৭১

Leave A Reply

Your email address will not be published.