Ultimate magazine theme for WordPress.

আশাশুনির কোলা বেড়িবাধ নির্মাণে ৩৪ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দিলেও বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

0
১৪৪ Views

 

বি এম আলাউদ্দীন, আশাশুনি প্রতিনিধি:
আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের আম্পানে ভেঙে যাওয়া কোলায় (৪ নং পোল্ডার) বেড়িবাধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকার কতর্ৃক জরুরী এ বাধ নির্মাণে ৩৪ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দিলেও যেনতেনভাবে কাজ করা হচ্ছে বলে পানিবন্ধি হাজারও মানুষের অভিযোগ। তারা বলছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলাতিতে সহায় সম্বল হারিয়ে চার মাস পানিবন্ধি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। জানাগেছে, সুপার সাইক্লোন আম্পানে দেখতে দেখতে চারটি মাস অতিবাহিত হয়েছে। এরমধ্যে আম্পানে ভাঙ্গন কবলিত কোলা বেড়িবাধ নির্মাণে জরুরি ভিত্তিতে সরকার ৩৪ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ি ৪ নং পোল্ডারে বাইরের স্লোভ ১৬ ফুট, রাস্তার মাথা ৮ ফুট, ভিতরের স্লোভ ১২ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও বাইরের স্লোভের পূর্বের জমাট বাধা মাটি সরিয়ে দিয়ে ১৬ ফুট স্লোভ করা হয়েছে। কোলা ৪ নং পোল্ডারটি অত্যান্ত ভয়াবহ। তিন নদীর মুখ একত্রিত হওয়ার কারণে উক্ত বেড়িবাধ প্রতি বছর ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়ে থাকে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কয়েকদিন পর এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শাকিল ও প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন যৌথভাবে কোলা বেড়িবাধটি প্রাথমিকভাবে নির্মাণ কাজ শেষ করেন। সে থেকে অদ্যবধি কোলা ৪ নং পোল্ডার দিয়ে ভিতরে পানি প্রবেশ করেনি। এলাকাবাসির দাবী প্রচন্ড স্রোতের সময় বাধটি নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর থেকে লোকালয় আর পানি প্রবেশ করেনি। সরকার ঐ বাধের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ৩৪ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তদারকিতে যে কাজটি হচ্ছে উক্ত কাজে বরাদ্ধকৃত টাকার আংশিক ব্যয় হবে বলে তারা দাবি করেন। কারণ চেয়ারম্যান শাকিল ও চেয়ারম্যান জাকিরের সমন্বয়ে যে বাধটি করা হয়েছে তাতে খুব বেশি কাজের আর প্রয়োজন হয় না। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ হতে মুল বাধের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে আর মাত্র ১ মাস পর মূল বাধের কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া বর্তমানে জোয়ারের পানির চাপ ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে। আগের মতো অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে না। সব মিলিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তদারকিতে কোলা ৪ নং পোল্ডারের বেড়িবাধ নির্মাণের যে কাজটি চলছে তা যেনতেনভাবে করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার ইউনিয়নের আংশিক কোলা ৪ নং পোল্ডার। এই পোল্ডারের বেড়িবাধটি আম্পানের পরে প্রচন্ড স্রোতের মধ্যে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে চেয়ারম্যান শাকিল এবং আমি প্রাথমিক ভাবে বাধটি নির্মাণ কাজ করি। সে থেকে আজও কোন জোয়ারের পানি ভিতরে প্রবেশ করেনি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তদারকিতে যেনতেনভাবে কাজটি সম্পূর্ন করার কাজ চলছে। বরাদ্ধকৃত টাকার সিংহভাগ উক্ত বাধ নির্মাণে ব্যবহার করা হবে না বলে তিনি মনে করেন। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মীর আলীফ রেজার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি জানি জরুরি ভিত্তিতে কোলা ৪ নং পোল্ডারে বাধ নির্মানের জন্য কাজ চলছে। নীতিমালার বাইরে কোন কাজ হলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও রাব্বি স্যারকে বিষয়টি অবগত করবো। এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা রাব্বি হাসানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, জরুরি বাধ নির্মাণ করতে কোলা ৪ নং পোল্ডারে সরকার কতর্ৃক ৩৪ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ হয়েছে। বরাদ্দকৃত টাকা ৪ নং পোল্ডারে ব্যায় করা হবে। অনিয়মের কথা এলাকাবাসী আমাকে অবগত করেছেন আমি সরেজমিনে যাচ্ছি ত্রুটি হলে সংশোধন অবশ্যই হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মীর আলীফ রেজার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি জানি জরুরি ভিত্তিতে কোলা ৪ নং পোল্ডারে বাধ নির্মানের জন্য কাজ চলছে। নীতিমালার বাইরে কোন কাজ হলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও রাব্বি স্যারকে বিষয়টি অবগত করবো।

Leave A Reply

Your email address will not be published.