Ultimate magazine theme for WordPress.

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার লক্ষীকোলা গ্রামে রাতের অন্ধকারে ৭ সন্তানের জননী বিধবা সুফিয়াকে মারধর করে রাস্তায় ফেলে গেল তার ছেলে!

0
১৪৫ Views

বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার লক্ষীকোলা (মুন্সিপাড়া) গ্রামের সাত সন্তানের জননী বিধবা সুফিয়া বেগম (৭৫) চার ছেলে-তিন মেয়ে নিজ নিজ সংসারে ভালো থাকলেও কারও সংসারেই ঠাঁই হয়নি বৃদ্ধা মায়ের। ঠাই হয়েছে বাঁশঝাড়ের কুড়ে ঘরে।

জানা য়ায়, ১৫ বছর পূর্বে স্বামী মফিজ উদ্দিন মারা যাওয়ার পর থেকে অনেক কষ্ট করে খেয়ে না খেয়ে চার ছেলে আর তিন মেয়েকে বড় করেছেন সুফিয়া।
ভালো ঘরে ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। এখন চার ছেলে- তিন মেয়ে নিজ নিজ সংসারে ভালোই আছে। কিন্তু তাদের কারও সংসারেই বৃদ্ধা মায়ের ঠাঁই হয়নি।
এক বছর আগে তৃতীয় সন্তান শরিফুল ইসলাম গভীর রাতের অন্ধকারে মাকে বাড়ি থেকে মারধর করে বাঁশঝাড়ের নিচে রাস্তায় ফেলে রাখেন। দীর্ঘ এক বছর সেখানেই গ্রামবাসীর সহায়তায় ছোট ছাপড়া করে মানবেতর জীবন-যাপন করছে এ বৃদ্ধা।
ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বৃদ্ধা সুফিয়ার এমন জীবন-যাপন করার জন্য দায়ী ছেলেদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, ১৫ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্ট করে ছেলে-মেয়েদের বড় করেছেন সুফিয়া বেগম। এখন বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছেন তিনি । এখন তিনি কোনো কাজ করতে পারেন না। ছেলে-মেয়েদের কাছে বোঝা হয়ে গেছেন এখন। চার ছেলের আলাদা সংসার থাকলেও কোনো ছেলেই তার দায়িত্ব নিতে চান না।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, সুফিয়া বেগমের বড় ছেলে রফিকুল বিএনপি নেতা। তিনি গত ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ধানের শীষ মার্কা নিয়ে লড়েছেন। এক সন্তান সাইফুল দুবাই প্রবাসী। আরেক সন্তান শরিফুল মৎস ব্যবসায়ী। পুকুর চাষ করে লাখ লাখ টাকা আয় করে সে। ছোট ছেলে সাজু মিয়া নিজেই অভাবী। বৃদ্ধা সুফিয়া বেগম অভিযোগ করেন, তার তৃতীয় সন্তান শরিফুল তাকে বেশি নির্যাতন করেছে। এমন অভিযোগ এলাকার অনেকেরই। এলাকার অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শরিফুল এলাকায় মাছ ব্যবসায়ী এবং বেপরয়া। শরিফুল একাধিকবার তার মাকে মারধর করেছে বলেও অভিযোগ করেন এলাকার লোকজন। দেউলী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাই প্রধান বলেন, অসহায় ওই বৃদ্ধা মাকে ফেলে দেবার কথা শুনে আমি বয়স্ক ভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তার সন্তানরা স্বাবলম্বী হলেও মাকে এভাবে ফেলে রাখা অন্যায়। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে বৃদ্ধার অন্য ছেলেরা কেউ কথা বলতে রাজি হয় না।

এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ এসএম বদিউজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ওই বৃদ্ধার খোঁজ-খবর নেয়া হবে এবং তার সন্তানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলমগীর কবীর জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই এখনই শুনলাম খোঁজ খবর নিয়ে দেখব, যদি এমন হয় তাহ প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর বরাদ্ধ আসলে আমরা দেব।

Leave A Reply

Your email address will not be published.