Ultimate magazine theme for WordPress.

বরিশাল বাকেরগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ জনজীবন

0
৬১ Views

বরিশাল প্রতিনিধি
বাকেরগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে নাকাল হয়ে পড়েছেন উপজেলাবাসী। ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে গড়ে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না গ্রাহক। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় মাত্র ১৪ ঘণ্টা। ফলে এই তীব্র গরমে এলাকার মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা।

এদিকে ভয়াবহ এই লোডশেডিং থেকে মুক্তি পেতে গ্রাহকেরা বুকে ‘বিদ্যুৎ দাও, নইলে জীবন নাও’ প্ল্যাকার্ড লিখে রাস্তায় অভিনব প্রতিবাদ নামার হুশিয়ারি দিয়েছেন। বিদ্যুতের লোডশেডিং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে তোলপাড়। কেউ কেউ বলছেন, লোডশেডিংয়ে সরকারের সুনাম নষ্ট করতেই পল্লী বিদ্যুতের এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী এ অবস্থার তৈরি করছে। ফলে সরকারের প্রতি মানুষ আস্থা হারাচ্ছে। লোডশেডিং বর্তমানে বাকেরগঞ্জবাসীর নিত্যদিনের সঙ্গী। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১০ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকে না।

লোডশেডিং, টেকনিক্যাল সমস্যা, ওভার লোড ও লো-ভোল্টেজ ছাড়াও রয়েছে ঘন ঘন ট্রিপ ও সোর্স লাইন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। সর্বোপরী বর্ষা মৌসুমে আকাশে মেঘজমতে দেখলেই শুরু হয় লোডশেডিং। আর একটু-আধটু বৃষ্টি হলে তো আর কয়েক ঘন্টার জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকবেই। সেটা যেন নিয়মেই পরিণত হয়েছে। অনাবিজ্ঞ টেকনিসিয়ান দ্বারা কাজ আর বৈদ্যুতিক লাইনে জোড়াতালির কারণে নেগেটিভ পজেটিভ এক হয়ে প্রায় সময় ট্রান্সমিটার ব্লাস্ট হয়ে বিকট শব্দের সৃস্টি হয় এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে। এ কারণে হার্ড দুর্বল মানুষের মৃত্যুর ঝুঁকির পাশাপাশি অগ্নিসংযোগের আশঙ্কা রয়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পল্লী বিদ্যুত কর্মকর্তাদের এমন খামখেয়ালিপনার কারণে মানুষ প্রতিনিয়তই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুত বিভাগে কোন অভিযোগ দিলে তার কোন সমাধান না করে উল্টো ওই অভিযোগকারীদের নানানরকম হয়রানির মাধ্যমে বিভ্রান্তিতে ফেলারও অভিযোগ রয়েছে। প্রচন্ড ভ্যাপসা গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনা ঠিকভাবে করতে পারছে না। লোডশেডিং থাকার পরও বিল দিতে হচ্ছে অনেক বেশি। ফলে বিদ্যুৎ বিভাগ হাতিয়ে নিচ্ছে অনেক টাকা। এতে দেখা যাচ্ছে, সরকারের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে সাধারণ জনগণ।

কলসকাঠী ব্যবসায়িরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে আমরা দিশেহারা। তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে গরমে কোন কাস্টমার দোকানে বসতে পারে না। ফলে বেচাকেনাও করতে পারছি না। বিশেষ করে কনফেকশনারি দোকানের ফ্রিজের মালামাল নস্ট হয়ে যাচ্ছে। অতি লোডশেডিংয়ের কারণে ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতিও নষ্ট হচ্ছে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে ব্যবসায়িরা।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ থাক বা না থাক মাস শেষে মোটা অংকের বিদ্যুৎ বিল ধরিয়ে দিতে ভুল করেনা বিদ্যুৎ বিভাগ। অভিযোগ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক না থাকলে বিদ্যুৎ বিল বেড়েই চলেছে। আবার এক মাস অথবা সর্বোচ্চ দু’মাস বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়লেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে খুবই ওস্তাদ বিদ্যুৎ বিভাগের লাইনম্যানেরা।

বিদ্যুতের চলমান লুকোচুরির খেলা দ্রুত বন্ধ করা না হলে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকেরা প্রতিবাদ জানানোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে পৌরসভা, রঙ্গশ্রী,কলসকাঠী, পাদ্রীশিবপুর, নিয়ামতি ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি এলাকার গ্রাহকেরা জোটবদ্ধ হয়ে মহাসড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ সভা-সমাবেশ করবে বলে জানা গেছে। গ্রাহকদের এই প্রতিবাদ সহিংসতা হয়ে উঠতে পারে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে আভাস পাওয়া গেছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.