Ultimate magazine theme for WordPress.

গ্রাহক ও মার্চেন্টদের দায় মেটাতে ব্যর্থ হইলে ইভ্যালিকে সর্বশেষ দেউলিয়া ঘোষণার পরিকল্পনা ছিল রাসেলের : র‍্যাব।

0
১৪৩ Views

শামসুর রহমান।ঢাকা প্রতিনিধিঃ-

র‍্যাব সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল বলেছেন গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের কাছে ইভ্যালির দেনা বেড়ে এখন এক হাজার কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে।র‍্যাব আরো জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল জানান গত ফেব্রুয়ারিতেও এই দেনার পরিমাণ ছিল ৪০৩ কোটি টাকা।র‍্যাব গ্রেপ্তারকৃত ইভ্যালির সিইও রাসেল এর কাছে জানতে চায় গ্রাহক ও মার্চেন্টদের এই টাকা কীভাবে ফেরত দিবে, র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।দায় মেটাতে ব্যর্থ হলে সর্বশেষ ইভ্যালিকে দেউলিয়া ঘোষণার পরিকল্পনাও ছিল রাসেলের এমনটি জানিয়েছেন র‍্যাব।

আজ শুক্রবার র‍্যাব সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলছেন, ইভ্যালিতে মো. রাসেল ও তাঁর স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিনিয়োগ ছিল খুবই কম। তাঁদের ব্যবসায়িক কৌশল ছিল নতুন গ্রাহকের ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে পুরোনো গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের দেনা আংশিক পরিশোধ করা।তাঁরা ‘দায় ট্রান্সফারের’ মাধ্যমে ব্যবসা করছিলেন।জেনেশুনেই মো. রাসেল এই নেতিবাচক কৌশল গ্রহণ করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কে জানিয়েছেন।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা আরো বলেছেন, ইভ্যালির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে গ্রেপ্তারকৃত দুইজন জানান, তাঁদের লক্ষ্য ছিল প্রথমত ইভ্যালির ‘ব্রান্ড ভ্যালু’ তৈরি করা এবং পরে দায়সহ কোনো প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে লভ্যাংশ নেওয়া।এই উদ্দেশ্যে তাঁরা বিভিন্ন দেশও ভ্রমণ করেছেন।এ ছাড়া বিকল্প অন্য পরিকল্পনাও তাদের ছিল। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির কাছে ইভ্যালির শেয়ার বিক্রিয়ের প্রস্তাব দিয়ে তাদের উপর দায় চাপিয়ে দেওয়া।এর বাইরে তাদের পরিকল্পনা ছিল ইভ্যালির তিন বছর পূর্ণ হলে শেয়ার মার্কেটে অন্তর্ভুক্তির পর শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে দায় চাপানোর।

র‍্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন আরো জানিয়েছেন,গ্রাহকদের দায় মেটাতে বিভিন্ন অজুহাতে সময় বাড়ানোর আবেদন মো. রাসেলের একটি কৌশল ছিল। তিনি জানান, দায় মেটাতে ব্যর্থ হলে সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে ইভ্যালির সিইও দেউলিয়া ঘোষণার পরিকল্পনা করেছিলেন।

সংবাদ সম্মেলন শেষে মো. রাসেল ও তাঁর স্ত্রী শামীমাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়।পরে তাঁদেরকে আদালতে পাঠানো হবে।

এখানে উল্লেখ্য যে,বুধবার দিবাগত রাতে রাসেল ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলা করেন আরিফ বাকের নামের এক গ্রাহক। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ইভ্যালি ডটকমের চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে পণ্য কিনতে ওই প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ১০ হাজার ৫৯৭ টাকা দেন। ৭ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য দেওয়ার কথা থাকলেও তা না দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ওই অর্থ আত্মসাৎ করেন প্রতিষ্ঠানের দুই কর্ণধার। প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার মো. রাসেল ও তাঁর স্ত্রী চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের র‍্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.