Ultimate magazine theme for WordPress.

অবহেলা জনিত কারণে ডা. তৌফিকের মৃত্যু, ৩ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা। তদন্ত করবে সিআইডি।

0
৮৬ Views

শামসুর রহমান।ঢাকা প্রতিনিধি:

অবহেলাজনিত কারণে এভার কেয়ার হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. তৌফিক এনামের মৃত্যুর অভিযোগে তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নিহতের পরিবার।রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন নিহত তৌফিক এনামের বাবা সিনিয়র ফিজিওথেরাপিস্ট আক্তারুজ্জামান মিয়া। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে সিআইডিকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

এই মামলার আসামিরা হলেন কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালের কনসালটেন্ট ল্যাপারোস্কপিক সার্জন প্রফেসর ডা. আবদুল ওহাব খান, ল্যাব এইড হসপাতালের গ্যাস্ট্রো এন্টারোলজিষ্ট ডিপার্টমেন্টের ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল এবং বিআরবি হাসপাতালের হেপাটো বিলিয়ারী সার্জন প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আলী। বাদীপক্ষের আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরন মামলা ও অদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।

এদিকে মামলায় অভিযোগ বলা হয়, ডা. তৌফিক এনাম অসুস্থ হলে গত ৪ মে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতাল কাকরাইল শাখার ডা. আব্দুল ওহাব খানকে দেখানো হয়। এরপর তার অধীনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ধরা পড়ে রোগীর গলব্লাডারে পাথর জমেছে। পরের দিন ডা. তৌফিককে অপারেশন করেন ডা. আবদুল ওহাব।এরপর গত ৬ মে তাকে ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া হয়। তারপর তিনি বাসায় চলে যান।আবার গত ৯ মে সন্ধ্যায় হঠাৎ তৌফিক অসুস্থ হলে ডা. ওহাব খানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আবারও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জরুরি ভিত্তিতে ল্যাবএইড হাসপাতালে ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

এরপর ল্যাবএইড হাসপাতালের ডা. স্বপ্নীলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ডা. তৌফিকের পরিবার। তিনিও আবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দেখেন যে গলব্লাডার অপারেশনের সময় ভুল জায়গায় ক্লিপ লাগানো হয়েছে। এরপর ডা. স্বপ্নীল জেনেশুনে বেশি টাকার নেয়ার জন্য ইআরসিপি উইথ স্ট্যাংটিং করেন। তিনি এই ব্যর্থ চেষ্টা করেন বেশি টাকা নেয়ার জন্য।যার ফলে রোগী ডা. তৌফিক এর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে।

এরপর তিনিও ডা. আব্দুল ওহাব এর মত জরুরি ভিত্তিতে বিআরবি হাসপাতালের প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আলীর কাছে দেখাতে বলেন। ডা. ওহাব ও ডা.স্বপ্নীল দুইজন পরস্পর যোগসাজশে ডা. তৌফিককে ডা.মোহাম্মদ আলীর কাছে পাঠানো হয়। ডা. মোহাম্মদ আলী গত ১২ মে জরুরি ভিত্তিতে রোগীকে বিআরবি হাসপাতাল ভর্তি করান।

এরপর ডাক্তার মোহাম্মদ আলী রোগীর স্বজনদের বলেন, ‘রোগীর অবস্থা ভালো না জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করতে হবে।এর আগে যে দুইজন ডাক্তার অপারেশন করেছেন সেখানে তাদের অবহেলা ছিল। তিনি বলেন ডা. তৌফিককে জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করতে হবে অন্যথায় রোগীকে বাঁচানো যাবে না।

এরপর গত ৩০ মে ডা. তৌফিককে ডা. মোহাম্মদ আলীর অধীনে বিআরবি হাসপাতালে অপারেশন করানো হয়। এরপর প্রথমে তৌফিকের পরিবারকে জানানো হয় অপারেশনে তিন ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হবে।তিন ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করার পর আবারও ৪ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন বলে জানান ডা. মোহাম্মদ আলী এবং বলেন রক্ত না দিতে পারলে রোগীকে বাঁচানো যাবে না। এরপর হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ডা. তৌফিকের স্বজনদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ডা. তৌফিক এনাম চিকিৎসাধীন অবস্থয় মারা যান।

Leave A Reply

Your email address will not be published.