Ultimate magazine theme for WordPress.

ঈদের পর দাম কমেছে আলু, শসা ও মুরগির কিন্তু একটু বাড়তি ফলের দাম।

0
৫৬ Views

শামসুর রহমান । ঢাকা প্রতিনিধিঃ-
করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ঈদের ছুটিতে কর্মস্থল ত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সরকার। কিন্তু সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে অনেকেই ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে গেছেন। আবার ঈদের পরেও বাড়ি ফিরেছেন অনেকে। এদিকে ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরার সংখ্যা বাড়ছে। এ রকম অবস্থায় রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো অনেকটাই নিরুত্তাপ।

ঈদের ছুটি শেষে আজ রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে প্রায় সব দোকানই খুলেছে। ক্রেতাও দেখা গেছে নগণ্য। এই মুহূর্তে পচনশীল পণ্যগুলো তুলনামূলক কম দামেই ছেড়ে দিচ্ছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে অপচনশীল পণ্যগুলোর দাম ধরে রাখার চেষ্টা করেন তাঁরা। ক্ষেত্রবিশেষে দাম বাড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
ফাঁকা শহরের হাতিরপুল ,কারওয়ান ও উত্তরা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, ঈদের ঠিক আগের দরেই বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। প্রতিকেজি পাইকারিতে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা, খুচরায় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। তবে ক্রেতা কম বলে হতাশ নন কোনো বিক্রেতা
কাঁচাবাজারের এক ব্যবসায়ী বললেন, এক বা দুই দিন পরই ঢাকায় মানুষ বাড়বে, তখন পেঁয়াজ লাগবে। এখন সব বিক্রি করে দিলে কীভাবে হবে?

আলুর দাম ফিরে এসেছে আগের অবস্থানে। কারওয়ান বাজারে আলুর কেজি ১৮থেকে ২০ টাকা। অন্যান্য বাজারে তা ২০থেকে ২৫ টাকা কেজি। তবে দামাদামি করলে কিছুটা কমে কেনা যায়। পুরো রমজান মাসেই আলু বিক্রি হয়েছে এমন দামে।
তবে ক্রেতা কম বলে হতাশ নন কোনো বিক্রেতা ।
কিন্তু কাঁচা শাকসবজির দাম ব্যাপক হারে কমেছে। পুরো রমজান মাসে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হয়েছিল ৬০-৮০ টাকা দামে। ঈদের তিন–চার দিন আগে শসার কেজি সেঞ্চুরি হাঁকানোর পরও ১৫-২০ টাকা বেশি ছিল।

কিন্তু আজ কাঁচাবাজারে এক শসা বিক্রেতা বলেন, ৪৫ টাকা কেজিতে দিমু। একটু দামাদামি করে নিলে, ৪০ টাকা? আবার দুই কেজি দুই কেজি একসাথে নিলে, ৬০-৭০ টাকা দিলেই দিয়ে দিচ্ছে।’ সুপার মার্কেটের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণে থাকা শসার অবশ্য এখনো ৮০-৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছে।

কাঁচাবাজারে শসার পথ ধরে দাম পড়েছে বেগুনসহ অন্যান্য সবজির। বাজারভেদে এগুলো ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। কাঁচা মরিচও ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর লেবু তো আকারভেদে ৩০-৪০ টাকা ডজন ডেকে ডেকেই দিচ্ছে।
আবার কমেছে মুরগির দাম ও। সোনালিকা জাতের মুরগির কেজি ঈদের আগে ৩০০ টাকার ওপরে উঠেছিল। ঈদ যেতেই আবার ২৫০ টাকা কেজিতে নেমে এসেছে। ব্রয়লার মুরগিও ১৩০-১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

যাই সব মুদি দোকানই খোলা হয়েছে। কিন্তু সেগুলোতে বিক্রেতারা অলস সময় কাটাচ্ছেন। ঘুমাতে বা ঝিমাতে দেখা গেছে অনেককে। এ রকমই এক দোকানে জানতে চাইলাম, খোলা চিনির দাম কত? সাফ জবাব, ৭০ টাকা কেজি।

ঈদের পরে ছোট দানা মসুর ডালের দাম কিছুটা কমেছে। বিভিন্ন বাজারে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে বড় দানার মসুর ডাল ৭৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ফলের দামও কমেছে। তবে বাজারে আসা নতুন ফলগুলোর দাম বাড়তিই। ১০০ লিচু বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। কালোজাম ১০০ টাকা কেজি। আর পাকা আম গড়ে ১৫০-২০০ টাকা কেজি। বিক্রেতা কম থাকলেও বাজারে ক্রেতার ভিড় যতটুকু আছে, তা এই ফলের বাজারেই। একটু স্বাদ বদল করতেই হয়তো ফলের দোকানে ভিড় বেড়েছে ক্রেতাদের।

Leave A Reply

Your email address will not be published.