Ultimate magazine theme for WordPress.

গাইবান্ধা পলাশবাড়ীতে সাংবাদিকের  উপর হামলা : সাংবাদিক মহলে উত্তেজনা ১৭ মে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন।

0
১৩৩ Views

(মতিউর) গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ-

 

গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী পৌর এলাকার নুরপুর মৌজায় ২ পৃথক দাগে প্রায় কয়েক কোটি টাকার সম্পদ ৪৪ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘ হলো পৌর এলাকার হরিণবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক শাহজাহান আলী ভুলু ও ডিমল্যান্ড পার্ক মালিক নুনিয়াগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক রশিদুনবী চান মিয়ার মধ্যে দ্বন্দ কোলহ চলমান রয়েছে। জমি জমা সংক্রান্ত বিষয়ে এঘটনায় উভয় পক্ষের একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ দেওয়া রয়েছে বলে দাবী করেছে উভয় পক্ষ।

 

গতকাল ১৬ মে রাত ১ টার সময় নুরপুর মৌজায় অবস্থিত দ্বিতীয় বসতবাড়ীতে সাংবাদিক শাহজাহান ভুলুর উপর নেক্কার জনক হামলা করে রক্তাক্ত হাড় কাটা জখম করে গুরুতর আহত করে। এবং তার সেই বসতবাড়ীতে হামলা করে ভাংচুর চালায় হামলাকারীরা । আহত সাংবাদিক শাহজাহান ভুলু দাবী করেন অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক রশিদুনবী চান মিয়ার হুকুমে তার ছেলে ও সঙ্গীয় সন্ত্রাসী বাহিনী রাতের আধারে এ হামলা চালায়।বর্তমান সময়ে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

এবিষয়ে অভিযুক্ত রশিদুনবী চান মিয়া নিকট জানতে চাইলে, তিনি দাবী করেন আহত শাহজাহান ভুলুর ও তার লোকজন নুনিয়াগাড়ী মৌজায় প্রফেসার পাড়াস্থ বাসভবনে হামলা করে ভাংচুর করেছে। তিনি শাহজাহান আলী ভুলুর উপর হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এবং শাহজাহান আলী ভুলু কে মাদক কারবারি, ডাকাত, সন্ত্রাসী হিসাবে দাবী করেন। তিনি বলেন, গতরাতে আমার বসতবাড়ীতে হামলা করেছে এবং ভাংচুর চালিয়েছে। তিনি বলেন, এবিষয়ে আমার ছেলে বলতে পারবে। তবে তার ছেলে নিজের কাজে ব্যস্ত দাবী করে কোন মন্তব্য প্রদান করেনি।

 

এরপর বাসার নিচে প্রথম গেট পেরিয়ে ভিতরের দ্বিতীয় গেটের সামনে ফুলের টব এলামেলো ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে ভাঙ্গাচুরা অবস্থায় পরে থাকে । এর ভাঙ্গা টব গুলোর মাঝে একটি ভারতীয় ফেন্সিডিলের খালি বোতল পরে থাকতে দেখা যায়। এবং তিনতলা বাড়ীটির একটি জানালার কাচ ভাঙ্গা দেখা যায়। এসব ভাঙ্গাচুরা মালামালের মাঝে ভারতীয় ফেন্সিডিল দেখে গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এরপর এ ঘটনায় সত্যতা খুজতে পাশাপাশি বাসা বাড়ীতে বসবাসকারী মানুষ জন রশিদুনবী চান মিয়ার বাসায় মামলার কথা কেউ বলতে না পারলেও সাংবাদিক শাহজাহান ভুলুর বতসবাড়ীতে রাতে হামলার ঘটনা ঘটেছে তবে তারা বাহিরে বের না হওয়ার কারণে হামলাকারীরা কে তা বলতে পারেনি।

 

এদিকে স্থানীয় সূত্রে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির ও সাংবাদিক শাহজাহান আলী ভুলুর একাধিক সহকর্মীদের নিকট নিকট জানা যায়, সাংবাদিক শাহজাহান আলী ভুলুর আগে কি ছিলো তার কোন সতত্যা যদিও নেই কিন্তু তিনি যেন মাদকসেবী নন তা তারা নিশ্চয়তা প্রদান করেন। তারা আরো দাবী করেন সাংবাদিক শাহজাহান আলী ভুলু সে নিজে পান সিগারেট পর্যন্ত খায় না তাকে মাদকসেবী হিসাবে দাবী করা এটা পূর্ব শত্রুতার অংশ । আর কেউ কারো বাসায় হামলা করতে গিয়ে ভাংচুর করা জিনিস পত্রের উপরে ফেন্সিডিল সেবন করে খালি বোতল ফেলে যাবে না। এ চিত্রই প্রমাণ করে রশিদুনবী চান মিথ্যা অভিযোগ করে সাংবাদিক শাহজাহান ভুলুকে ফাসাতে মিথ্যা ভাংচুরের অভিযোগ তুলেছেন। বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধিদের শাস্তির দাবী জানিয়েছেন  তারা। এদিকে নিজস্বার্থ উদ্ধারে একটি চক্রের চকান্তের শিকার একটি পরিবারকে সমাজে অপরাধি হিসাবে চিহিৃন্ত করার পিছনে জড়িত চক্রটির শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

 

তবে এবিষয়ে পলাশবাড়ী থানার অফিরার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান জানান,এ পর্যন্ত রশিদুনবী চান মিয়া তাহার বসতবাড়ীতে হামলার ঘটনায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে সাংবাদিক শাহজাহান আলী ভুলুর পক্ষে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি আরো বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘদিন হলো উভয় পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ কোলহ লেগে আছে। জমাজমা সংক্রান্ত বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতে যাওয়া জন্য আমরা উভয় পরিবারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এরপরে আদালতে না গিয়ে যদি শাহজাহান আলী ভুলু জোড়পূর্বক কারো জমি দখল করে রাখে সেটা তো খারাপ। এবিষয়ে নিয়ে যদি ফৌজদারি কোন অপরাধ সংগঠিত হয় তাহলে অভিযোগ সাপেক্ষে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

এদিকে এঘটনায় পলাশবাড়ী উপজেলার গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে চরমক্ষোভ বিরাজ করছে। এমতবস্থায় সাংবাদিক শাহজাহান আলী ভুলুর উপরে নেক্কারজনক হামলা করে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত করার প্রতিবাদে ও হামলাকারীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবীতে পলাশবাড়ী প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে আগামীকাল ১৭ মে সোমবার সকাল ১১ প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়েছে। পলাশবাড়ী প্রেসক্লাবে সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম রতন বলেন, সাংবাদিক শাহজাহান আলী ভুলু পলাশবাড়ী প্রেসক্লাবের একজন সদস্য সে যদি কোন অন্যায় বা অপরাধ করে থাকে তাহলে আইনগত ভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারতো। কিন্তু হামলাকারীরা নিজেরা আইন হাতে তুলে নিবে তা কি হয়। এভাবে একজন গণমাধ্যমকর্মীর উপর হামলা করে গুরুতর আহত করবে সেটা গণমাধ্যমকর্মীদের মুখ বুঝে সইবে না।সেকারণে পলাশবাড়ী প্রেসক্লাবের সকল সদস্যগণ হামলাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবী জানায়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.