Ultimate magazine theme for WordPress.

পূর্ব সুন্দরবনে ছয় মাসে ১২০ কেজি হরিণের মাংস ও ছয়টি মাথা উদ্ধার

0
১০০ Views

 

জাহিদা নাসরিন মুক্তি,মোংলাঃ

দেশে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় সুন্দরবনে পর্যটন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। চলতি বছরের ১৯ মার্চ থেকে এখনো পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে। ফলে সুন্দরবনের পর্যটন খাতে নেমে এসেছে এক ধরনের স্থবিরতা। এ অবস্থায় সুন্দরবনের পর্যটননির্ভর অনেক মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ ও পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্টদের জীবন জীবিকা রক্ষায় সুন্দরবনের আশপাশের জেলাগুলোতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার সুযোগে অনেকেই বাধ্য হয়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বনে প্রবেশ করে হরিণসহ অন্যান্য প্রাণী হত্যা, কর্তন নিষিদ্ধ গাছ কাটা ও বিষ দিয়ে মাছ ধরার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। এসব অপরাধে পূর্ব সুন্দরবনে গত ছয় মাসে অনেকগুলো হরিণ শিকারের ঘটনা ঘটেছে। যদিও বন কর্মকর্তাদের দাবি, করোনাকালে কঠোর নজরদারির কারণে সুন্দরবনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কম সংঘটিত হয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, ১ মার্চ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ৭৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৪১টিতে জরিমানা, ১৫টিতে চালান ও ১৯টিতে অজ্ঞাত নামাদের আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় ৫৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জন গ্রেফতার হয়েছেন। চালান দেয়া ১৫টি মামলার মধ্যে ছয়টি বিষ প্রয়োগের, দুটি গাছ কর্তনের ও সাতটি বন্যপ্রাণী ক্ষতিসাধনের। এ সময়ের মধ্যে ছয়টি ট্রলার, পাঁচটি নৌকা, বিষের বোতল ১৩টি, ৩৩ কেজি হরিণের মাংস, একটি হরিণের চামড়া, ২২টি জীবিত হরিণ, ৩ হাজার ৯৪৮ ফুট ফাঁদ জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ১৮৬ কেজি চিংড়ি, ১৩০ কেজি সাদা মাছ, ১১টি জাল, ৩০০ ফুট দড়ি বড়শি, তিনটি ককসিট, ১৯ দশমিক ৫৩ ঘনফুট সুন্দরী গোলকাঠ ও ৬৫ ঘনফুট জ্বালানি কাঠ জব্দ করা হয়। এছাড়া ১ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত চালানের ১১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে বিষ প্রয়োগের সাতটি, বন্যপ্রাণী ক্ষতি করায় চারটি ও অন্যান্য দুটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় ৪৬ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময়ে ১৪টি নৌকা, একটি ট্রলার, ১৯টি বিষের বোতল, ৮৭ কেজি হরিণের মাংস, হরিণের মাথা ছয়টি, হরিণের পা ২৪টি, ১ হাজার ১০০ ফুট ফাঁদ, ৫৫ দশমিক ৪০ কেজি চিংড়ি মাছ, ২৫ কেজি সাদা মাছ, ইলিশ ধরার জাল ৩০০ ফুট, সাধারণ জাল ১৭টি, দড়ি বড়শি ৬৭০ ফুট জব্দ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, গত ৫ মে শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়া ২২টি জীবিত হরিণ বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। এ সময় ৩০ কেজি হরিণের মাংস, হরিণ শিকারের ফাঁদ ও ট্রলারসহ তিন শিকারিকে আটক হয়। তিনি জানান, গত ১০ আগস্ট ইলিশ শিকারের অনুমতি নিয়ে অভয়ারণ্যে প্রবেশ করেন নয় জেলে। পরে তারা বিষ ঢেলে মাছ শিকার করার সময় আটক করা হয়।
মোংলা বন্দরের টুরিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় বননির্ভর অধিকাংশ মানুষই করোনাকালে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তাই বাধ্য হয়ে বনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। তাই সরকারের উচিৎ করোনাকালীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতিমালা প্রনয়ন করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশে সুযোগ দেওয়া। এতে করে যেমন পর্যটন খাত বিকশিত হবে তেমনি সরকারের রাজস্ব বাড়বে কয়েকগুন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.