Ultimate magazine theme for WordPress.

আবাদি জমিতে পুকুর খনন আদালতে ১৪৪ধারা জারি।

0
১৫৮ Views

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ফসলি জমিতে পুকুর খননে আইনে কিছু বিধিনিষেধ আরোপিত আছে। কৃষিজমি সুরক্ষা ও ব্যবহার আইন-২০১৬-এর ৪ নম্বর ধারায় বলা আছে : (১) বাংলাদেশের যে সকল কৃষিজমি রহিয়াছে, তাহা এই আইনের মাধ্যমে সুরক্ষা করিতে হবে এবং কোনোভাবেই তাহার ব্যবহারভিত্তিক শ্রেণি পরিবর্তন করা যাইবে না। তবে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনসাপেক্ষে কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে এবং উদ্দেশ্যে প্রণীত বিধি মোতাবেক অত্র বিধানাবলি পরিবর্তন করা যাইবে। (২) কৃষিজমি ব্যতীত অন্যান্য জমি একইভাবে সুরক্ষা করিতে হইবে।
বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০-এ বলা আছে, ‘কতিপয় ক্ষেত্রে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ:- ৪ নম্বর ধারা: বিপণনের উদ্দেশ্যে কোন উন্মুক্ত স্থান, চা বাগানের ছড়া বা নদীর তলদেশ হইতে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাইবে না-(ক) পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (১৯৯৫ সনের ১নং আইন) এর অধীন প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসাবে ঘোষিত হইলে; (খ) সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারাজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা হইলে, অথবা আবাসিক এলাকা হইতে সর্বনিম্ন ১ (এক) কিলোমিটার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত সীমানার মধ্যে হইলে : তবে শর্ত থাকে যে, সরকার জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত হইলে, সরকারি গেজেটে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা, সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখপূর্বক, এই ধারায় উল্লিখিত কোন বিষয়ে উক্ত শর্ত শিথিল করিতে পারিবে;
অপরাধ, বিচার ও দন্ড :- ১৫ : (১) এই আইনের ধারা ৪ এ বর্ণিত কতিপয় ক্ষেত্রে বালু বা মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ সংক্রান্ত বিধানসহ অন্য কোন বিধান কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অমান্য করিলে বা এই আইন বা অন্য কোন বিধান লঙ্ঘন করিয়া অথবা বালু বা মাটি উত্তোলনের জন্য বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করিলে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ব্যক্তিবর্গ (এক্সিকিউটিভ বডি) বা তাহাদের সহায়তাকারী কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ অনূর্ধ্ব ২ (দুই) বৎসর কারাদন্ড বা সর্বনিম্ন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা হইতে ১০ (দশ) লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন। এই অভিযান অব্যাহত আছে।

সব আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুকুর খনন করছে শাহাপুর গ্রীন এগ্রো লিমিটেড নামক একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আব্দালপুর ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৬/১৭ বিঘা ধানী জমিতে এই পুকুর খনন করছে।
যদিও আফজাল বিশ্বাস ও উলফাদ হোসেন আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩৩ শতাংশ জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে মহামান্য আদালত। সব নিয়ম-নীতিকে তোয়াক্কা না করেই তারা ধানী জমিতে পুকুর খনন করছে ‌এই প্রতিষ্ঠান টি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক্সকেভেটর দিয়ে পুকুর খননের কাজ চালছে। রাস্তার সাথের কিছু গাছ কেটে মাটি নিয়ে যাওয়ার রাস্তা বানানো রয়েছে।

আফজাল বিশ্বাসের ছেলে সেলিম রেজা জানান, হঠাৎ কিছুদিন আগে শাহাপুর গ্রীন এগ্রো লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে আমাদের জমিতে পুকুর খনন কাজ শুরু করে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার শাহাপুর গ্রামের বাহার আলীর ছেলে আজিজুর রহমান, মৃত বাবর আলী বিশ্বাসের ছেলে সাইদুল ইসলাম, আসাদুজ্জামানের ছেলে তারেকুজ্জামান, তাহাজ্জের হোসেন বিশ্বাসের ছেলে আবুল কালাম আজাদ, লিয়াকত আলীর ছেলে নাজমুল ইসলাম সহ ৬ জন। তারা দুটি এক্সকেভেটর নিয়ে এসে এই খনন কাজ শুরু করে। আমরা বাধা দিলেও তারা শোনেনি। যদিও শনিবার সকালে কুষ্টিয়া ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল।

আজিজুর রহমান বলেন, আমাদের জমিতে আমরা পুকুর খনন করছি। কিছু লোক ঈর্ষান্বিত হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। যে জায়গাটুকু ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে সেই জায়গা ছেড়ে দিয়েই আমরা পুকুর খনন করছি। ধানি জমিতে কিভাবে পুকুর খনন করছেন জানতে চাইলে এই প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেনি তিনি। তিনি বলেন আমরা শাহাপুর গ্রীন এগ্রো লিমিটেড নামক এক প্রতিষ্ঠান করছি। সেই প্রতিষ্ঠানের জন্য এই পুকুর খনন কাজ করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার বিষ্ণু পদ সাহা বলেন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় মোট আবাদি জমি ২৩ হাজার ১শ ২ হেক্টর। বর্তমানে আবাদ হচ্ছে ২৩ হাজার ৭৬ হেক্টর জমিতে। দিন দিন আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে।

কুষ্টিয়া ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সেখানকার শুধুমাত্র আইন শৃঙ্খলা অবনতি হচ্ছে কিনা সেটুকুই দেখার বিষয় আমাদের, বাকিটুকু সব দেখবেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কৃষি জমিতে পুকুর খননের এবিষয়টি আমার জানা নেই। আমি বিষয়টি দেখছি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.