Ultimate magazine theme for WordPress.

‘গানই এখন বেঁচে থাকার একমাত্র পন্থা প্রতিবন্ধী শিল্পী রইজ উদ্দিনের।

0
১৪৪ Views

মো: ইয়াছিন আলী শেখ ঈশ্বরদী পাবনা প্রতিনিধি :

লোকে ডাকেন রইচ বয়াতী নামে। জীবন থেমে থাকে না, তবে সংগ্রাম চলে অবিরত! এরই নাম জিবন সংগ্রাম। ৪৫ বছর ধরে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন হাটবাজারে গান গেয়ে সংসার চালান প্রতিবন্ধী রইজ উদ্দিন (৬০)

জীবনের শেষ সময় এসেও গান ছাড়তে পারেনি এই প্রতিবন্ধী কণ্ঠশিল্পী রইজ। এখন সপ্তাহের শনি হতে শুক্রবার সকাল হতে সন্ধা বসে বসে আপন মনে গান গাইতে থাকে। প্রতিদিন মানুষ বেড়াতে আসেন পাকশির পদ্মা নদীর তীরে। অনেক মানুুষই হার্ডিঞ্জ ব্রীজ- লালন শাহ সেতুর নীচে এসে রইজের সুরেলা কন্ঠে গান উপভোগ করেন।

শনিবার (৩০ জানুয়ারী)বিকেলে পৌষের শীতের সকালেই হার্ডিঞ্জ ব্রীজের নীচে আপন মনে একতারা বাজিয়ে গান গাচ্ছে রইজ উদ্দিন।
এসময় সেখানে গান শুনতে আসেন পাকশী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান, বগুড়া রিলাইন্স ইনসুরেন্স বগুড়া জোনের ম্যানেজার মাহবুব আলম , সাংবাদিক ইয়াছিন শেখ, শরিফ প্রমুখ।

বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে মানুষ আর হাটে লোকগান শুনতে ইচ্ছুক নয়,নতুন গান তুললে তা শুনে টাকা কেউ দেয় কেউ দেয় না । তবুও একটানা গান গেয়ে চলছে ‘মায়ের একধার দুধের দাম,কাটিয়া গায়ের চাম/পাঁচ তলাতে শান্তি নাইরে আছে গাছতলায়/ওকি গাড়িয়াল ভাই/চাতক বাচে ক্যামনে/ পুরোনো দিনের গান তার সুরেলা কন্ঠে শুনে ৫/১০ টাকা দিচ্ছিলেন। আগে সপ্তাহের অন্যদিনগুলোতে ঈশ্বরদী উপজেলার ইপিজেড মোড়,রুপপুর মোড়,দাশুড়িয়া ট্রাফিক মোড়, অরনকোলা গরু হাট, এলাকায় ঘুুুরে ঘুরে গান গাইতে পারতেন। রইজের বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করতো। বাবার মৃত্যুর পর গান গেয়ে টাকা আয় করে অনেক কষ্টে তিনি ৩ বোনের বিয়ে দিয়েছেন তিনি।এখন বয়সে ভাড়ে আর হয়ে ওঠে না। যা আয় করেন,তা দিয়ে চলে সংসার, আর ছোট ছেলের পড়ালেখার খরচ।

রইজ উদ্দিন ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষিকুন্ডা ইউনিয়নের ফকির মার্কেট এলাকার মৃত রাজমিস্ত্রি মৃত হাকিম উদ্দিন শেখ এর বড়
ছেলে। তারা ৩ ভাই ৪ বোন।এদের মধ্যে সেই বড়। আর রইজ উদ্দিনের ২ ছেলে ও স্ত্রী রয়েছে। বড় ছেলে জসিম উদ্দিন শেখ (২০) বিয়ে করে সংসার শুরু করে আলাদা থাকেন। ছোট ছেলে শিমুল উদ্দিন (১৪) গ্রামের হাইস্কুলে নবম শ্রেনীতে পড়ালেখা করছে।

রইজ উদ্দিনের সাথে আলাপচারীতায় জানা যায়, যখন মাত্র দেড় বছর, তখন রইজ উদ্দিনের টাইফয়েড জ্বরে মাথায় ফোঁড়া হয়েছিল। ভালো চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি। ওই অসুখের প্রতিক্রিয়া চোখের জ্যোতি কমে যায়। মাত্র ৭ বছর বয়স যখন হলো,তখন তার স্কুলে যাওয়ার ইচ্ছা হলেও চোখের স্বল্প দৃষ্টির কারনে সম্ভব হয়নি। ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় রইজের বয়স মাত্র ১০ বছর। তখন বাড়িতে একা বসে বসে থ্রী ব্যান্ডের রেডিওতে গান শুনতো রইজ উদ্দিন। মেধা ভালো থাকার কারনে সহজেই মুখস্ত হয়ে যেত। সুন্দর কন্ঠে সেই গান অন্যদের শুনাতে পারতো সে।তখনও ভাবেনি এটাই তার পেশা হয়ে যাবে।

কেমন আছেন তিনি? জানতে চাইলে বলেন,,, আমি বেশ ভালোই আছি! তবে আমি কারো কাছে সাহায্য প্রত্যাশী নন। সারাদিনে ২থেকে ৩শ টাকা আয় করেন। অতঃপর মুচকি হাসি দিয়ে বলেন, শুক্রবার একটু আয় বেশি হয়। তবে দূঃখ করে বললেন, ‘এখন আর পুরোনো একতারা দিয়ে গান আর কেও শুনতে চাই না।বদলে গেছে দিন,আধুনিক হয়েছে সবকিছু। তবে নতুন একটা একতারা হলে ভালো হয়’

ঈশ্বরদী উপজেলায় যে কোন নির্বাচন হলে ডাক পড়তো রইজ বয়াতির। পাড়া আর মহল্লা,গ্রামে গ্রামে গান গেয়ে, অনেকে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন, বিপুল ভোটে নির্বাচিতও হয়েছেন। তবে পরে আর কেউ আর খোঁজ রাখেনি এই শিল্পীর। শেষ জীবনে এসে তবুও কোন অভিমান নেই শিল্পী রইজ উদ্দিনের। অথচো সমাজের কোন বৃত্তবান কিন্তুু বাড়িয়ে দিতে পারেন সহযোগীতার হাত।আবার এগিয়ে আসতে পারেন সহজেই!

Leave A Reply

Your email address will not be published.