Ultimate magazine theme for WordPress.

এফডিসি ছেড়ে মোল্লা কেন যাচ্ছে বাড়ি।

0
১৪৬ Views

বিনোদন নিউজ ডেস্ক :

টানা পাঁচ দশকের ঝলমলে সংসার ফেলে মোল্লা যাবে জন্মগ্রামে! স্বেচ্ছায় নয়, বলতে পারেন বাধ্য হয়েই। কারণ, এরমধ্যে তার ভালোবাসার ঘর বিএফডিসি হারিয়েছে জৌলুস; নিজের শরীরে বাসা বেঁধেছে নানাবিধ অসুখ।

তাই বিএফডিসির সর্বস্তরের প্রিয়মুখ ঝালমুড়িওয়ালা মোল্লা এবার ফিরতে চাইছেন কুমিল্লা জেলার মনোহারগঞ্জ থানার মির্জাপুর গ্রামে। বাকি জীবনটা সেখানেই কাটাতে চান। কারণ, এরমধ্যে এক হাত অকেজো হয়েছে। কমেছে মুড়ি বিক্রিও। চলছে না তার জীবন ও সংসার। তার এমন দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন একদল তরুণ সাংবাদিক। আয়োজন করেছে মোল্লাকে বাড়ি ফেরানোর উৎসব। যে উৎসবের মাধ্যমে জানানো যাবে সম্মান, করা হবে আর্থিক উপকার। যা দিয়ে নিজ গ্রামে বাকি জীবন মোল্লা কাটাবেন স্বচ্ছন্দে।

মোল্লার বিদায়কে ঘিরে উৎসব হবে, এটাই স্বাভাবিক। কারণ, তিনিই সেই মানুষ যার হাতের ঝালমুড়ি খেয়েছেন নায়করাজ রাজ্জাক, শাবানা, আলমগীর, সালমান শাহ, মান্না, রিয়াজ, শাবনূর, ওমরসানী, মৌসুমী, ফেরদৌস, পপি, ডিপজল থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের প্রায় সকল চলচ্চিত্র শিল্পী ও কলাকুশলী।

মোল্লা যাবে বাড়ি- এই স্লোগান তুলে ৩ দিনের এই মুড়ি উৎসবের শুরুটা হয়েছে শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে। স্থান এফডিসি। চলেছে রাত ৮টা পর্যন্ত। শনি ও রবিবারও চলবে একই সূচিতে। প্রথম দিনেই দারুণ সাড়া পড়েছে এই উৎসবে। মোল্লার পাশে দেখা মিলেছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানকে। সমিতির পক্ষ থেকে পাওয়া গেছে আর্থিক আশ্বাস।

মোল্লার পাশে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান
উৎসবের অন্যতম আয়োজক সাংবাদিক এ এইচ মুরাদ বলেন, ‘এটা একদিকে মানবিক বিষয়। অন্যদিকে মানুষটাকে সম্মানের সঙ্গে বিদায় জানানো। দুটো বিষয় এক করেই আমরা উৎসবের পরিকল্পনাটি করি। চলবে রবিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত ৮টা পর্যন্ত। এরমধ্যে আগত শিল্পী ও কলাকুশলীরা মোল্লা ভাইকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন। এখান থেকে যে টাকা আসবে তা নিয়েই হাসিমুখে গ্রামে ফিরে যাবেন মোল্লা ভাই। এটা আমাদের প্রত্যাশা।’

এফডিসির সুপরিচিত এই ঝালমুড়ি বিক্রেতার তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। ছেলে-মেয়েরা নিজেদের সংসার নিয়ে আলাদা। ছোট ছেলে এখনো পড়াশুনা করছে।

মোল্লার ভাষ্যে, ‘১৯৭২ সাল থেকে আমি এখানে ঝালমুড়ি বিক্রি করি। দেশের এমন কোনও তারকা নেই যে আমার মুড়ি খাননি। পাশাপাশি এফডিসির মসজিদে ইমাম হিসেবেও কাজ করেছি। এখন বয়স হয়েছে। ঠিকমতো কাজ করতে পারি না। আগে বিক্রি করতাম ৩ কেজি মুড়ি আর এখন ১ কেজিও শেষ হয় না। এই টাকা দিয়ে আমার ভাতের পয়সাই হয় না। তাই গ্রামের বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেখানে গিয়ে দোকান করার চিন্তা করছি। এজন্য তো টাকার দরকার। আমার বাড়ি যাওয়ার কথা শুনে ছেলেরা এই আয়োজন করেছে। সবাই আমাকে সহযোগিতা করছে। এটাই আমার জীবনের বড় আনন্দ।’

৪৯ বছরের ঝলমলে ঘর (এফডিসি) ফেলে গ্রামে ফিরতে কষ্ট হবে না? মন টিকবে তো! এমন জিজ্ঞাসায় চোখ ছলছল মোল্লার। বলেন, ‘এই জায়গাটার প্রতি আগ্রহ ছিলো বলেই সেই বাল্যকালে এসে এখানে উঠেছি। অনেক মায়া জন্মেছে। অনেক স্মৃতি। আমার জীবনের অনেক সুখ আর দুঃখ লেখা আছে এখানে। এই মায়া ছেড়ে আমি যেতে চাইনি। না গিয়েও তো আর উপায় নেই আমার। আমি জানি, প্রথম অবস্থায় অনেক খারাপ লাগবে। কারণ এফডিসিকে আমি আমার নিজের ঘরবাড়ি বলেই ভাবি সবসময়। তবুও যেতে হবে, কারণ শরীর আর কুলায় না। তবে গ্রামে গিয়ে যখন খারাপ লাগবে তখন এসে ঘুরে যাবো।’

এদিকে মোল্লাকে ঘিরে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বা উৎসবে সাড়া পড়েছে চলচ্চিত্রমহলে। বেশিরভাগই বাড়াচ্ছেন ভালোবাসার হাত। উৎসবটি আয়োজনের পেছনে কাজ করছেন মাজহার বাবু, আহম্মেদ তেপান্তর, রাহাত সাইফুল, এ এইচ মুরাদ, আসিফ আলম, রঞ্জু সরকার, রুহুল আমিন ভূঁইয়া প্রমুখ। যারা প্রত্যেকেই সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িত।

উৎসবের প্রথম দিন মোল্লার পাশে আয়োজকরা
উৎসবের আরেক আয়োজক এবং বাচসাস-এর সাংগঠনিক সম্পাদক রাহাত সাইফুল বলেন, ‘ভালোবাসা ও সম্মানের সঙ্গে মোল্লা ভাইকে বাড়ি পাঠাতে চাই আমরা। তিনি শেষ বয়সে এফডিসি থেকে কষ্ট নিয়ে যাবেন, তা তো হয় না। প্রথম দিনে দারুণ সাড়া পেয়েছি আমরা। আশাকরি সামনের দুদিন শিল্পী-কুশলীরা শেষবারের মতো মোল্লার মুড়ি খেতে আসবেন। বাড়িয়ে দেবেন সাহায্য আর ভালোবাসার হাত।’

Leave A Reply

Your email address will not be published.