Ultimate magazine theme for WordPress.

বাকেরগঞ্জের কলসকাঠীতে চেয়ারম্যান প্রার্থী মুন্না তালুকদারের কর্মকান্ডে আওয়ামীলীগ বিব্রত!

0
২৫০ Views

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি

রাজাকার বাহিনীর উত্তরসূরির হাতে বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব! লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ছে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজাকারের রাজত্বের আদ্যপান্ত। ওই বাহিনীর গতিবিধি এবং রাজ্যজয়ের পন্থাও আওয়ামী লীগের জন্য অশনিসংকেত- এমন দাবী স্থানীয় প্রায় সকলের। প্রঙ্গত, উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচনের পর থেকেই এই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন প্রতিকুলতার কারণে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে পারেনি। এখন মধ্যযুগীয় বর্বরতার মতো প্রাণশঙ্কার সৃষ্টি হওয়ায় জীবনবাজী রেখে হলেও ভুক্তভোগীরা মুখ খুলছেন। কলসকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার মনু মারা যাওয়ার পর উপ-নির্বাচনে তার পুত্র রাজনৈতিক মেধাহীন অযোগ্য ফয়সাল ওয়াহিদ মুন্না তালুকদার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পিতার অকাল মৃত্যুর কারণে অনুকম্পা দেখিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু বিধিবাম! আওয়ামী লীগের প্রভাবে নির্বাচিত হয়েই অতীত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু করেন তিনি। আওয়ামী লীগের কোনো পদপদবী না থাকায় অপকর্মের ছক তৈরি করে সময়ের অপেক্ষায় ঘাপটি মেরে ছিলো মুন্না। কলসকাঠী ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই পিতার রেখে যাওয়া সকল সম্পত্তি তার নামে লিখে দেয়ার জন্য তিনি নিজের মাকে চাপ প্রয়োগ করেন। এনিয়ে পারিবারিক কলহের এক পর্যায় বরিশাল এবং কলসকাঠীর বাড়ি থেকে তার মাকে বের করে দিয়ে ঘর তালাবদ্ধ করে রাখেন। নিরুপায় হয়ে তার সহায় সম্বলহীন মা মেয়ের বেকার জামাইয়ের বাড়ি আশ্রয় নেন। পরে মাদারীপুরে একটি বাসা ভাড়া করে সেখানে বেঁচে থাকার লড়াইয়ের মধ্যে মৃত্যুর প্রহর গুণছেন। মনু তালুকদারের ছোট ছেলে আবির তালুকদার মাথা গোঁজার জন্য কলসকাঠী বাড়ির এক টুকরো জমি অবর্ননীয় ঝড়ঝাপটার মধ্যেও ধরে রেখেছেন। তাকেও ওই বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে প্রতিনিয়ত মুন্নার চাপ সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া মুন্না সুশীল ব্যক্তিত্ব ও খ্যাতিমান চিকিৎসক ডাঃ দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীর কাচারিঘর দখল করে স্বপরিবারে বসবাস করছেন।
কলসকাঠী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী সর্বজন শ্রদ্ধেয় আব্দুস সালাম তালুকদার এবং তার স্থানীয় ভক্ত, শুভার্থীসহ অসংখ্য মানুষকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করে হাত-পা ভেঙ্গে গুড়ো করে প্রাণনাশের হুমকী-ধামকী দিচ্ছে মুন্না। অথচ আব্দুস সালাম তালুকদার দীর্ঘ ৫১বছর ধরে কলসকাঠী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। প্রসঙ্গত, মুন্নার চাচা মোজাম্মেল হক তালুকদার ওরফে মুজু তালুকদার ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় কলসকাঠীর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং শান্তি কমিটির প্রধান ছিলেন। মুন্নার পিতা মনু তালুকদার তখন ছাত্র ইউনিয়নের বরিশাল বিএম কলেজের নেতা ছিলেন। আওয়ামী লীগের সমর্থক না হলেও তিনি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহন করেছিলেন। কিন্তু অংশগ্রহনের মধ্যেও ছিলো গোঁজামিল। ১৯৭৮ সালের নির্বাচনে মনু তালুকদারের ভাই মরহুম আবু তালুকদার এবং রাজাকার মজু তালুকদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ নির্বাচনে রাজাকার বাহিনীর প্রধান মজু তালুকদারের পক্ষ নেয় মুন্নার পিতা মনু তালুকদার। একই পরিবারের দুজনকে নির্বাচনে উস্কে দিয়ে বিরোধ সৃষ্টির ফলে মাহাবুব খন্দকার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালের কলসকাঠী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনু তালুকদার নিজে প্রার্থী হয়ে শওকত হোসেন হাওলাদারের কাছে পরাজিত হন। এরপর শওকত যখন জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার হয়, তখন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেয় মনু তালুকদার। এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির লাঙ্গলের হয়ে কাজ করেন। ১৯৯৩ সালে নিজের স্বার্থ হাসিলের বাসনায় মনু তালুকদার আবার ডিগবাজী দিয়ে জাতীয় পার্টি ছেড়ে আলহাজ্ব সৈয়দ মাসুদ রেজার সাথে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়। ১৯৯৬ সালে মাসুদ রেজা সংসদ সদস্য হলে তিনি কলসকাঠী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০২ সালের নির্বাচনে আবার শওকত হোসেন হাওলাদারের কাছে পরাজিত হন মনু তালুকদার। ২০০৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শামসূল আলম চুন্নুর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী পারভীন তালুকদারের পক্ষ নিয়ে হেরে যায়। এরপর প্রকাশ অযোগ্য বিশেষ ব্যক্তির আশীর্বাদে তিনি আওয়ামী লীগের টিকিটে ২০১০ সালে এবং ২০১৪ সালে নৌকা মার্কার বদৌলতে বিতর্কীত পন্থায় কলসকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আওয়ামীগ নেতার বক্তব্য, কলসকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ফয়সাল ওয়াহিদ মুন্না তালুকদার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ তো দুরের কথা এক টাকার বিনিময়েও আওয়ামীদের সদস্য পদও গ্রহন করেননি। তার পরিবারও এক এক সময় বিএনপি, জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলো। তার পিতা মরহুম আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার মনু চেয়ারম্যান হওয়ার বাসনায় সব দল ঘেটে ১৯৯৩ সালে আওয়ামীলীগে যোগ দেয়। আবার তিনিই ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শামসূল আলম চুন্নুর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী পারভীন তালুকদারের নির্বাচন করেন। তাছাড়া ফয়সাল ওয়াহিদ মুন্না তালুকদারের চাচা মজু তালুকদার ছিলেন উপজেলার একজন তালিকাভুক্ত রাজাকার। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভোল পাল্টানো এরকম একটি পরিবারের সন্তানকে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া ঠিক হবেনা।
তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর নিকট স্থানীয় আওয়ামীলীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের দাবি, কলসকাঠী ইউনিয়নের বিতর্কিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ফয়সাল ওয়াহিদ মুন্না তালুকদারকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না দেয়ার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মুন্না তালুকদার সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অপরগতা প্রকাশ করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.