Ultimate magazine theme for WordPress.

উখিয়ার অসমাপ্ত উন্নয়ন সড়ক যেন মরণ ফাঁদ-সৃষ্ট জটে দূর্ভোগ চরমে

0
৪১ Views

জালাল উদ্দিন:কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উপজেলা শহর উখিয়ায় যানবাহন, ব্যবসা বাণিজ্য, এনজিও সংস্থা তথা পথচারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় জন দুভোর্গ বেড়ে চরম আকার ধারণ করেছে। যানবাহন মালিক শ্রমিক ও স্থানীয়দের অভিমত সংকীর্ণ সড়কে এলোপাতাড়ি কুড়াকুড়ি করে ঠিকাদারের ফেলে যাওয়া সড়কটি বর্তমানে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়ক সংস্কারের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দুর্ঘটনায় অসংখ্য হতাহতের ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের টনক নড়ছে না। তবে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তা বলছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা হবে।

মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেওয়ার পর তাদের মানবিক সেবায় নিয়োজিত সরকার, এনজিও ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার ব্যবহৃত শত শত ভারী ও বিভিন্ন প্রকার যানবাহন চলাচলের ফলে কক্সবাজার টেকনাফ সড়কের অস্থিত্ব বিলিন হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় সরকার শুধুমাত্র উখিয়া-টেকনাফে সড়ক উন্নয়ন খাতে ৫৩৫ কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়ে এ সড়কটি দ্রুত উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা যথা সময়ে বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিভিন্ন মহল থেকে প্রচন্ড ক্ষোভ উত্তেজনা বর্হি:প্রকাশ উদ্ঘাটিত হচ্ছে। স্থানীয় বাস-ট্রাক মালিক শ্রমিক সমবায় সমিতির লাইন সম্পাদক জালাল উদ্দিন জানান, সংশ্লিষ্ট পক্ষের দায়িত্বহীন কর্মকান্ডের কারণে অসংখ্যা মানুষ দুভোর্গের ভাগী হচ্ছে। নালা নর্দমা ও খাদে পড়ে যানবাহনের মূল্যবান যন্ত্রনাংশ নষ্ট হচ্ছে। এমতাবস্থায় বেশ কিছু পথচারী, স্কুল কলেজগামী ছাত্রছাত্রী হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ থাকে যে, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার পর মানবতার শহর উখিয়ার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক যোগাযোগে দৃশ্যমান উন্নয়ন যোগ করেছে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প। এক বছর আগেও উখিয়াবাসীর কাছে কক্সবাজার-টেকনাফ শহীদ জাফর আলম আরাকান সড়ক ছিল এক দুঃস্বপ্নের নাম। গেল বছর বৃষ্টির সময়ে কোটবাজারবাসী সড়কে ধানের চারা রোপন করে প্রতিবাদ জানান।
এখন কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক জুড়ে উন্নয়নের কাজ ত্বরান্বিত হচ্ছে ধীরগতিতে। যদিও উখিয়ায় যানজটে ও খানাখন্দকে পরিপূর্ণ সড়কে মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে। এরপরেও মানুষ অসহায়ের মতো অপারগ পক্ষে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। যানজট নিরসন, স্বস্তিদায়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার নির্মাণকাজ দিনরাত বিরতিহীন ভাবে চলার কথা থাকলেও তা স্বপ্নের শামিল। ব্যস্ত নাগরিক জীবনকে আরও সহজ ও আধুনিকতায় পরিপূর্ণ করতে সরকার কাজ করলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে উন্নয়ন বাধাঁগ্রস্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উখিয়া বাস-মিনিবাস-জীপ-মাইক্রো মালিক শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আমিন সিকদার ভুট্টো জানান, ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্টের পর রোহিঙ্গা আশ্রয়কে কেন্দ্র করে এনজিও সংস্থার ভারী ত্রাণবাহি যানবাহন চলাচলের ফলে লিংক রোড থেকে পালংখালী পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৫ কিলোমিটার সড়কটি অস্থিত্বহীন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, এ সড়কে যাত্রীরা কোন ভাবেই নিরাপদ নয়। সড়ক ও জনপদ বিভাগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১০ টন পণ্যবাহি যানবাহন চলাচল উপযোগী সড়কে ২৫ টন ওজনের পণ্য নিয়ে প্রতিদিন শত শত ত্রাণবাহি যানবাহন ক্যাম্পে ঢুকছে। যার ফলে সড়কটি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে কাপের্টিং উঠে গিয়ে খানাখন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে সড়কটি উন্নয়নের কাজ চলমান থাকলেও তা দৃশ্যমান নহে। যে কারণে সড়ক পথে দুভোর্গতো কমেনি বরং কিছু কিছু অস্থিত্বহীন অংশে সীমাহীন দূভোর্গ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। যাত্রীদের কোমর ভাঙ্গা ঝাকুনি খেয়ে ভোগ করতে হচ্ছে নানা শারীরিক অসুস্থ্যতা।

কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার লিংক রোড থেকে উখিয়ায় নব নির্মিত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জামিল ইকবাল ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে টেকনাফের উনচিপ্রাং পর্যন্ত ২৫
কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজে নিযুক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সালেহ বাবুল ২০১৮ সালে কার্যাদেশ মোতাবেক কাজ শুরু করেন। প্রথম প্যাকেজের মরিচ্যা কিছু অংশ ও কোটবাজার সহ উখিয়ার আংশিক কাজ সম্পন্ন করে বাকী কাজ টুকু কুড়াকুড়ি করে ফেলে রাখে। দীর্ঘ সূত্রতার কারণে সড়ক উন্নয়ন কাজ বন্ধ থাকায় নিমার্ণাধীন সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোটবড় খানা খন্দকে সৃষ্টি হয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ভুক্তভোগীদের দাবী।

কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের নিবার্হী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, সড়কের বিভিন্ন স্থানে দখল বেদখল ও বৈদ্যুতিক খুঁটি সরাতে গিয়ে নিমার্ণ কাজের গতি কমেছে।
তিনি বলেন, বৃষ্টি কমলে কাজের গতি আরো বাড়বে বলে তিনি আশ্বাস্ত করেন। তিনি এও বলেন, এ সড়কটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই করার জন্য ঠিকাদারদের বার বার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে এবং কাজের গুনগত মান তদারকি করা হচ্ছে যে কারণে কাজের গতি স্বাভাবিকের চাইতে একটু কমেছে। তিনি আরো জানান, বর্ষার কারণে নিমার্ণ কাজ পূর্ব নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হলেও চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে ২ প্যাকেজ সড়ক উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হবে

Leave A Reply

Your email address will not be published.