Ultimate magazine theme for WordPress.

চুয়াডাঙ্গায় বন্ধ স্কুল কলেজ, কিশোর-কিশোরী বাড়ছে বাল্যবিবাহ

0
৩৬ Views

 

মোঃ সম্রাট হোসেন ঃ-বার্তা সম্পাদক

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বাস্তাবায়নধীনে মাধ্যমে প্রতিটি জেলা, উপজেলার প্রত্যকটি পৌরসভা ও ইউনিয়নের একটি করে সরকারী কিশোর- কিশোরী ক্লাব স্থাপন করা হয়েছে। অন্য জেলার মত চুয়াডাঙ্গা জেলায় কিশোর- কিশোরী ক্লাব ৪৫ টি ক্লাবও প্রতিষ্ঠা করা হয়। ৪ উপজেলায় প্রতিটি ইউনিয়নে ১ টি করে সরকারি কিশোর কিশোরী ক্লাব আছে।করোনার জন্য আপাতত বন্ধ হয়ে যায় সকল ক্লাবের কার্যক্রম। বেড়ে যাচ্ছে বাল্যবিবাহ ও কিশোর অপরাধ। (১ডিসেম্বর)২০২০ থেকে প্রতিটি জেলা-উপজেলায় ইউনিয়নের কাছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে ইউনিয়নের কাছাকাছি প্রাইমারী স্কুল থেকে ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইউনিয়নের সংখ্যার উপর নির্ভর করে সরকারিভাবে নিয়োগ দেওয়া হয় জেন্ডার প্রোমোটার এবং প্রত্যেকটি ক্লাবের জন্য একজন করে সংগীত শিক্ষক ও একজন করে আবৃতি শিক্ষক। জেন্ডার প্রোমোটাররা কিশোর-কিশোরীদের জেন্ডার সম্পর্কে ধারণা দিতেন। কিশোর অপরাধ থেকে কিভাবে নিজেকে রক্ষা করবে এবং দেশকে সুন্দর ভাবে গড়ে তুলতে হবে সে সম্পর্কে আলোচনা করতেন। শুধু তাই নয় সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নমূলক কাজে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে সে আলোচনা করা হতো।সমাজের ভালো-মন্দ দিকসহ যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হতো এই ক্লাবে। ছেলে- মেয়েদের মানসিক আনন্দের জন্য সংগীত শিক্ষক আর আবৃতি শিক্ষক কবিতা আবৃত্তি করতেন এবং কিশোর-কিশোরীদের সংগীত শিখাতেন। করোনায় কিশোর-কিশোরীদের কথা চিন্তা করে তারা যেন করোনায় আক্রান্ত না হয় সেজন্য ক্লাব বন্ধ করে দেয় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর গত ২০ (মার্চ) ২০২০ থেকে কিন্তু এই করোনাকে ভর করে সমাজে বাড়ছে বাল্যবিবাহ, কিশোর অপরাধসহ নানা খারাপ কাজ। স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় কিশোররা খারাপ সঙ্গ পেয়ে নানা ধরনের মাদকে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে আর কিশোরী রা বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে। মোবাইলে একজন জেন্ডার- প্রমোটারের সাথে কথা হলে তিনি আমাদের (জয় নিউজ ৭) অনলাইন পত্রিকা কে জানান, আমরা খুবই সুন্দরভাবে ক্লাব চালানো শুরু করেছিলাম কিন্তু হঠাৎ করে করোনার প্রকট থাবায় সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তারপরেও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, এবং কিশোর অপরাধ, কিশোরী ইভটিজিং, মাদক, যৌতুক থেকে কিভাবে কিশোর-কিশোরীদের বিরত রাখা যায় সেই বিষয়ে আমরা সব সময় কাজ করছি। ক্লাবে গিয়ে কিশোর -কিশোরীরা আস্তে আস্তে অনেক কিছু শিখতে পেরেছে।সকল কিশোর কিশোরীদের ক্লাবে যেতে ইচ্ছে করে কিন্তু করোনা ভাইরাস এর কারণে যেতে পারছে না। বাড়িতে থাকতে থাকতে সবাই ঝিমিয়ে যাচ্ছে। লেখাপড়া মন বসছে না। তাই আমরা কিশোর -কিশোরীদের মনোবল বাড়ানোর জন্য নিয়মিত কিশোর -কিশোরীদের সাথে যোগাযোগ করে আসছি।
এই বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কিশোর -কিশোরী ক্লাবের উপ-পরিচালক আব্দুল আওয়ালের কাছে জানতে চাইলে তিনি আমাদেরকে জানান, আমরা সরকারী নির্দাশনা পেলে আমার জেলার সকল ক্লাবের কার্যক্রম চালু করে দিবো। চুয়াডাঙ্গা জেলার ৪ টি উপজেলায় মোট ৪৫টি সরকারি কিশোর কিশোরী ক্লাব আছে। ইতিমধ্যে আমরা করোনার ভিতর ৫টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছি এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মেয়াদে তাদের জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম নিরলাসভাবে করে যাচ্ছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা কিশোর – কিশোরী ক্লাবের জেলা ফিল্ড সুপারভাইজার এম কাবিল উদ্দিন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কিশোর -কিশোরী ক্লাবের জেলা ফিল্ড সুপারভাইজার বলেন, তৃণমুল পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে কিশোর -কিশোরী ক্লাব বদ্ধপরিকর। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে সরকার ন্যাশনাল হেল্প লাইনে ফ্রী কল ১০৯ এর ব্যবস্থা করেছেন। দেশ, জাতি ও কিশোর-কিশোরী বান্ধব সমাজ গঠনে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.