Ultimate magazine theme for WordPress.

কেয়ামত থেকে কেয়ামত প্রথম সিনেমা দিয়েই দর্শকদের হৃদয় জয় করে নেন সালমান শাহ

0
২৩ Views

সাঈদ তারেক মাহমুদ: প্রযোজনা সংস্থা আনন্দমেলা ভারত থেকে তিনটি সিনেমার কপিরাইট নিয়ে আসে। সেই তিনটি সিনেমায় তারা নতুন নায়ক নিতে চায়। দায়িত্ব পড়ল পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের ওপর। তিনি হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকলেন নতুন নায়ক।

এক সময় পেয়ে গেলেন ইমন নামের একটি ছেলেকে। মা নীলা চৌধুরীর অনুমতি নিয়ে ইমনকে নির্বাচিত করলেন সিনেমার জন্য। নাম পরিবর্তন করে রাখা হলো সালমান শাহ। পরিচালক সোহান বলেন, ‘অনেক খোঁজাখুঁজির পর আমি সালমানকে পাই। তারপর তাকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ দিই নাচ-গান, ফাইট এবং অভিনয়ের ওপর। ’ তিনি জানান, ১৯৯২ সালের ৩১ আগস্ট কেয়ামত থেকে কেয়ামত মুভির মহরত হয়। আর প্রথম শ্যুটিং শুরু করি ১৩ সেপ্টেম্বর। সালমান-মৌসুমীকে নিয়ে কাজ করতে খুব একটা সমস্যা হয়নি। কারণ বুঝতাম তাদের নিয়ে কীভাবে কাজ করতে হবে।
১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ কেয়ামত থেকে কেয়ামত মুক্তি পায়। প্রথম সিনেমা দিয়েই দর্শকদের হৃদয় জয় করে নেন সালমান শাহ।
১৯৯৪ সালে ‘তুমি আমার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে সালমান শাহর সঙ্গে জুটি বাঁধেন শাবনূর। প্রথম মুভিতেই ব্যাপক সফলতা পায় এ জুটি। সালমান শাহ অভিনীত ২৭টি সিনেমার ১৪টিতেই নায়িকা ছিলেন শাবনূর। সালমানকে নিয়ে শাবনূর বলেন, ‘সালমানের সঙ্গে আমার প্রথম মুভি “তুমি আমার”। তখন তো সে মৌসুমী আপুর সঙ্গে অভিনয় করত। শ্যুটিংয়ের সময় মাঝেমধ্যে দেখতাম। আমি তো তখন ছোট ছিলাম। এতকিছু বুঝতাম না। একের পর এক মুভিতে ওর সঙ্গে অভিনয় করলাম। সালমানের ব্যাপারে আমি একটা কথাই বলব, ন্যাচারাল অ্যাকটিং যেটা বলে সেটা সালমানের ভেতর ছিল। দুজনই শ্যুটিং করার সময় দুষ্টুমি করতাম। শুধু আমার সঙ্গেই নয়, সবার সঙ্গেই সে খুব বন্ধুভাবাপন্ন ছিল, অনেক নম্র ছিল, আর্টিস্ট-ডিরেক্টরদের সঙ্গে কীভাবে কাজ করতে হবে তা বুঝত, তাদের সঙ্গে ভালোভাবে মিশতে পারত। অনেক মজার মানুষ ছিল। দেখা গেছে, মজা করতে করতে কখন যে শ্যুটিং শেষ হয়ে গেছে তা বুঝতেই পারতাম না। সে যেমন হাস্যোজ্জ্বল ছিল, তেমনি অনেক চঞ্চলও ছিল। চটপটে ছিল বলে খুব দ্রুত কাজ করতে পারত। আমি ওর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পারতাম না। ও আমাকে মাঝেমধ্যেই তাড়া করত। ওর প্রয়াণ দিবসে ওর আত্মার শান্তি কামনা করি। ’

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। দিনটি ছিল শুক্রবার। এদিনই সালমান শাহ মারা যান। তার মৃত্যু নিয়ে নানা রহস্যের জাল বিস্তার হয় সে সময়। স্ত্রী সামিরা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন, সালমান আত্মহত্যা করেছেন। তাকে ড্রেসিংরুমে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে। ২৪ বছর ধরে চলছে সেই মামলা। সর্বশেষ চলতি বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই নতুন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে হত্যাকাণ্ড নয়, পারিবারিক কলহসহ নানা কারণে মানসিক যন্ত্রণায় বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন।

সালমানের প্রয়াণ দিবসে নতুন প্রজন্মের তারকারাও জানালেন তার প্রতি শ্রদ্ধা। মাহিয়া মাহি বলেন, ‘শুধু পোশাকে আর স্টাইলেই নয়! চলাফেরা, মুখের ভঙ্গি সবকিছুতেই আমি সালমান শাহর ভক্ত। আমি মনে করি, একটা ছবিই একজন শিল্পীকে অন্যসব শিল্পী থেকে আলাদা করার জন্য যথেষ্ট। সালমান তেমনই একজন নায়ক ছিলেন। তার প্রতিটি অভিনয়ই ছিল অসাধারণ। ’

পরী মনি বলেন, ‘সালমান শাহ একজন স্টাইলিশ এবং হ্যান্ডসাম হিরো ছিলেন। তার নিজস্ব একটা স্টাইল ছিল যেটা একজন নায়কের থাকা উচিত। আমার তো তার সবকিছুই ভালো লাগত। এ ছাড়া সালমান শাহর অভিনয়ের মধ্যেও একটা ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পেত সব সময়। তার ফ্যাশন-সচেতন এবং ব্যক্তিত্ব আমাকে সব সময়ই উৎসাহ জোগায়। ’

Leave A Reply

Your email address will not be published.