Ultimate magazine theme for WordPress.

বান্দরবানে দুই মাস বন্ধ থাকবে স্বর্ণ জাদি মোহাম্মদ ইউনুছ নাইক্ষ্যংছড়ি ৫ সেপ্টেম্বর ২০ ইং বান্দরবান প্রতিনিধি বান্দরবানের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র বুদ্ধ ধাতু জাদি বা স্বর্ণ জাদি দুই মাসের জন্য সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে মহাসুখ প্রার্থনা পূরক বুদ্ধ ধাতু জাদির উপাধ্যক্ষ উ গুবন্ধন পঞঞা মহাথের বলেন, আষাঢ়ী থেকে আশ্বিনি এই তিন মাস বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের জন্য খুবই সংযমের মাস । বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে আমরা এই সময়টুকু অতিবাহিত করি । আচার অনুষ্ঠানে যাতে কোন বিঘ্ন না ঘটে তাই সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর এই দুই মাস পর্যটকদের আগমন বন্ধ রাখা হয়েছে । এই দুই মাসের পরে আগামী নভেম্বর মাসের ৬ তারিখে পরে পর্যটকরা যথারীতি এই পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণ করতে পারবেন । স্থানীয়রা জানান, আগস্টের ৩ তারিখ থেকে এ বর্ষাবাস শুরু হয়, শেষ হবে আগামী নভেম্বর মাসের ৬ তারিখ । আগস্ট মাসে লকডাউনের কারণে সব পর্যটনকেন্দ্রর সাথে এ পর্যটনকেন্দ্রও বন্ধ ছিল । তবে লকডাউন উঠে গেলে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র খুলে দিলেও বর্ষাবাসের কারণে ২ মাস এ পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রেখেছে দায়িত্বরতরা । স্বর্ণ জাদি বন্ধ থাকায় প্রতিদিনই শত শত পর্যটক ফিরে যাচ্ছে । আরো জানা যায়, আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত এই তিন মাস বৌদ্ধদের কাছে অত্যন্ত সংযমের মাস। বর্ষাবাস যাপনকালে ভিক্ষুগণ প্রতিটি অষ্টমী, অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে প্রাতিমোক্ষ আবৃত্তি, আপত্তি দেশনাসহ নানাবিধ বিনয়ভিত্তিক কর্ম সম্পাদন করেন। এ সময় তাঁরা প্রতিটি উপসথ দিবসে গৃহীদের কাছেও ধর্মদেশনা করেন এবং গৃহীদের শীলাদি প্রদানসহ ধর্মীয় জীবনাচারে উপদেশনা প্রদান করেন। প্রসঙ্গত, বর্ষাবাস বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘের আত্মবিশ্লেষণাত্মক এবং অধিষ্ঠানমূলক শিক্ষাব্রতবিশেষ । এ সময় ভিক্ষুরা বিধিবদ্ধ শিক্ষা ও একান্ত ধ্যান সমাধির চর্চা করেন । এ ব্রত জীবনকে সত্যিকার মুক্তির পথে নিয়ে যায় । বুদ্ধের সময় থেকেই এ ব্রত পালিত হয়ে আসছে । বুদ্ধদেব স্বয়ং রাজগৃহে অবস্থানকালে ভিক্ষুসংঘের জন্য এই বর্ষাবাস বিধান প্রবর্তন করেন ।

0
৬৩ Views

মোহাম্মদ ইউনুছ নাইক্ষ্যংছড়ি ৫ সেপ্টেম্বর ২০ ইং

বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র বুদ্ধ ধাতু জাদি বা স্বর্ণ জাদি দুই মাসের জন্য সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মহাসুখ প্রার্থনা পূরক বুদ্ধ ধাতু জাদির উপাধ্যক্ষ উ গুবন্ধন পঞঞা মহাথের বলেন, আষাঢ়ী থেকে আশ্বিনি এই তিন মাস বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের জন্য খুবই সংযমের মাস । বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে আমরা এই সময়টুকু অতিবাহিত করি । আচার অনুষ্ঠানে যাতে কোন বিঘ্ন না ঘটে তাই সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর এই দুই মাস পর্যটকদের আগমন বন্ধ রাখা হয়েছে । এই দুই মাসের পরে আগামী নভেম্বর মাসের ৬ তারিখে পরে পর্যটকরা যথারীতি এই পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণ করতে পারবেন ।

স্থানীয়রা জানান, আগস্টের ৩ তারিখ থেকে এ বর্ষাবাস শুরু হয়, শেষ হবে আগামী নভেম্বর মাসের ৬ তারিখ । আগস্ট মাসে লকডাউনের কারণে সব পর্যটনকেন্দ্রর সাথে এ পর্যটনকেন্দ্রও বন্ধ ছিল । তবে লকডাউন উঠে গেলে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র খুলে দিলেও বর্ষাবাসের কারণে ২ মাস এ পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রেখেছে দায়িত্বরতরা । স্বর্ণ জাদি বন্ধ থাকায় প্রতিদিনই শত শত পর্যটক ফিরে যাচ্ছে ।

আরো জানা যায়, আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত এই তিন মাস বৌদ্ধদের কাছে অত্যন্ত সংযমের মাস। বর্ষাবাস যাপনকালে ভিক্ষুগণ প্রতিটি অষ্টমী, অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে প্রাতিমোক্ষ আবৃত্তি, আপত্তি দেশনাসহ নানাবিধ বিনয়ভিত্তিক কর্ম সম্পাদন করেন। এ সময় তাঁরা প্রতিটি উপসথ দিবসে গৃহীদের কাছেও ধর্মদেশনা করেন এবং গৃহীদের শীলাদি প্রদানসহ ধর্মীয় জীবনাচারে উপদেশনা প্রদান করেন।

প্রসঙ্গত, বর্ষাবাস বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘের আত্মবিশ্লেষণাত্মক এবং অধিষ্ঠানমূলক শিক্ষাব্রতবিশেষ । এ সময় ভিক্ষুরা বিধিবদ্ধ শিক্ষা ও একান্ত ধ্যান সমাধির চর্চা করেন । এ ব্রত জীবনকে সত্যিকার মুক্তির পথে নিয়ে যায় । বুদ্ধের সময় থেকেই এ ব্রত পালিত হয়ে আসছে । বুদ্ধদেব স্বয়ং রাজগৃহে অবস্থানকালে ভিক্ষুসংঘের জন্য এই বর্ষাবাস বিধান প্রবর্তন করেন ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.