Ultimate magazine theme for WordPress.

ভাষা সৈনিকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়া সময়ের দাবী : মোস্তফা

0
৫১ Views

নিজস্ব প্রতিবেদক 

মুক্তিযোদ্ধাদের মত ‘ভাষা সৈনিক’দের ভাষা বীর হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেয়া এখন সময়ের দাবী বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনই স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রথম সোপান। একই সঙ্গে সারা বছর শহীদ মিনারের পবিত্রতা রক্ষাসহ ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক স্থানগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্যও সরকারের ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত।

বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) নয়াপল্টনের যাদু মিয়া মিরনায়তনে ভাষা সৈনিক মতিনের (রাষ্ট্রভাষা মতিন) ৯৪তম জন্ম ও রওশন আরা বাচ্চুর ১ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাদের প্রতিকৃতিতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ’র শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

ভাষা সৈনিক আবদুল মতিন ও রওশন আরা বাচ্চুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের এত বছরও পর এবং স্বাধীনতার ৪৯ বছরেও মায়ের ভাষার অধিকার এবং সম্মান রক্ষায় যারা ভাষা আন্দোলন করেছেন তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে না পারা রাষ্ট্র ও শাসকগোষ্টির চরম ব্যর্থতা। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস এবং ভাষা শহীদদের অবদানকে তুলে ধরতেই তাদের স্বীকৃতি প্রয়োজন।

ন্যাপ মহাসচিব আরো বলেন, ভাষা আন্দোলনের পরিপূর্ণ ইতিহাস এখন পর্যন্ত লেখা হয়নি। বিচ্ছিন্নভাবে আছে। একটি অধিকতর পরিপূর্ণ ইতিহাস রচনায় একটি জাতীয় কমিশন করা প্রয়োজন। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে উপেক্ষা করলে জাতির মধ্যে অস্তিত্বহীনতা তৈরি হবে। সে জন্যই এর পরিপূর্ণ ইতিহাস দরকার। বিশেষ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীর বছরের ২১ ফেব্রæয়ারির পূর্বেই ভাষা সৈনিকদের তালিকা তৈরি করে গেজেট আকারে প্রকাশ করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হোক। অনেক ভাষা সৈনিক মানবেতর জীবন-যাপন করছে। অনেকে মানবেতর জীবন-যাপন করে মারা গেছেন। স্বীকৃতি-সম্মান তো দূরে থাক, রাষ্ট্র তাদের কোনো খোঁজ রাখেনি। ভাষা আন্দোলন আমাদের গৌরবের ইতিহাস হলেও রাষ্ট্রের এ দায়িত্বহীনতা অত্যন্ত দুঃখের এবং অগৌরবের। গৌরবের ইতিহাসে অগৌরব-অমর্যাদা থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, ভাষা শহীদ কেবল ভাইদের গৌরবের ইতিহাস না, বোনদেরও গৌরবের ইতিহাস। এই ভাষা আন্দোলন করতে গিয়েই একমাস জেল খেটেছি। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস অসাম্প্রদায়িকতার ইতিহাস। এখানে সঙ্কীর্ণতার কোনো সুযোগ নেই।

এসময় আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এম এ জলিল, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, গণতান্ত্রিক ঐক্যের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, ন্যাপ ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল ভুইয়া প্রমুখ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.