Ultimate magazine theme for WordPress.

গলাচিপার কলাগাছিয়ায় বয়স্ক,বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা আত্মসাৎ করেছে ইউপি সদস্য তসলিম সিকদার।

0
২০৩ Views

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ঃ

শেখ হাসিনার সরকার যখানে বয়স্ক বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের সাবলীল করার চেষ্টা করে ঠিক তখনই গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ০৫নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য তসলিম সিকদারের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

ভাতা ভুগি মোঃমোসলেম,জবরুদনেছা,রাজু বেগম,অজুফা-সহ কয়েক জন জানান প্রতি ছয়মাস পরপর এ ভাতা দেয় হয়, ভাতার পরিমাণ ৬,০০০/৯,০০০ পর্যন্ত।কিন্তু তাদের হাতে পেয়েছে ৩,০০০/৪,৫০০ পর্যন্ত।প্রতিটি ভাতা ভুগির কাছ থেকে রাখা হয়েছে ভাতার অর্ধেক পরিমাণ টাকা।

ভাতা ভুগিরা বলেন ভাতার টাকা ব্যাংক থেকে উঠানোর পর আমাদের ০৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার তসলিম সিকদার আমাদের সকলকে বলেন ইউনিয়ন পরিষদের অফিসে যেতে।ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দায় যাওয়ার পর সকলকে বলে অফিস খরচের জন্য সকল ভাতার টাকা থেকে অর্ধেক পরিমাণ টাকা দিতে হবে।তার কথায় আমরা সকালে তার হাতে ভাতার অর্ধেক পরিমাণ টাকা দেই। পরে আমরা জানতে পাই আসলে অফিস খরচ বলতে কিছুই নেই।আমরা এ দুর্নীতির বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সমাজসেবায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি এবং ০৫ ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ ওহাব হাওলাদার -সহ কয়েকজনকে বলেছি।

 

০৫ ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ ওহাব হাওলাদার গণমাধ্যমকে বলেন একদিন সকাল বেলায় মোঃ মোসলেম-সহ কয়েক জন ভাতা ভুগি আমার কাছে আসে বলে আমাদের কাছ থেকে তসলিম মেম্বার ভাতার অর্ধেক পরিমাণ টাকা রেখেছেন। আমি মোঃমোসলেমের কাছে জানতে চাইলাম কি কারনে টাকা রেখেছেন বলেন ইউনিয়ন পরিষদের অফিস খরচ বাবদ রেখেছে। আসলে আমিও জানি না আধাও অফিস খরচ বলতে কিছু আছে কিনা। তাই সাবেক ইউপি সদস্য খালেক গাজীকে ফোন করে জানতে চাইলাম অফিস খরচ বলতে কোন খরচ আছে কিনা সে বলেন অফিস খরচ বলতে কিছুই নেই হয়তো কেউ ৫০০/৬০০টাকা খুশি হয়ে দেয় তাতে এভাবে কাউকে ঠকায় তা আমার জানা ছিল না।

বিষয়টি অনুসন্ধানে জন্য অভিযুক্ত ইউপি সদস্য তসলিম সিকদারের বাড়ি যায় বেশ কয়েক জন গণমাধ্যম কর্মী কিন্তু টের পেয়ে ক্যামেরা ফাঁকি দিয়ে পালিয়েযায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য তসলিম সিকদার। মুঠোফোন কথা বলে তাকে আসতে বললে তিনি বলেন আমি জরুরি কাজে দূরে। অভিযোগের ব্যাপারে তার কাছে জানতে চাইল বলেন চেয়ারম্যান এ ব্যাপারে জানেন।

এ ব্যাপারে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব দুলাল চৌধুরী সাথে মুঠোফোন কথা হয়।ইউপি চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে বলেন অফিস খরচ বলতে কিছুই নেই।আর আমি এব্যাপারে কিছুই জানিনা।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার বলেন আমরা কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ০৫ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য তসলিম সিকদারের বিরুদ্ধে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ও আমাদের নির্দেশ করেছেন বিষয়টি তদন্তের জন্য। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি অভিযোগ যদি প্রমাণিত হলে তাহলে আমি আমার উর্ধতন কর্মকর্তাকে অবহিত করে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশিষ কুমার বলেন-যদি কোন অসাধু লোক এ ধারণের ভাতা থেকে কোন প্রকার ভাতার চাঁদা দাবী করে অথবা নিয়ে থাকে তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কারন এটাকা সরকার দেয় দুস্ত গরীব অবহিত মানুষেকে এখানে কারো কোন চাঁদা দাবি করার সুযোগ নেই। কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ০৫ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তসলিম সিকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয় তদন্ত প্রক্রিয়াধীন অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.