Ultimate magazine theme for WordPress.

এনজিও কিস্তির চাপে রড মিস্ত্রি আত্মহত্যার ঘটনার ন্যায় -বিচার পেতে তার স্ত্রীর হাসিনার প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রেরন!

0
৭১ Views

 

শাজাহানপুর(বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার চুপিনগর গ্রামে এনজিও গুলোর কিস্তির টাকার চাপে মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়-বিচার পেতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন নিহতের স্ত্রী হাসিনা খাতুন।

৫ অক্টোবর (সোমবার) শাজাহানপুর উপজেলার নিবার্হী অফিসারের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
নির্বাহী কর্মকর্তার পেশকার মুজাহিদ সে টি গ্রহণ করেন।
স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়,ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য হাসিনার স্বামী ওয়েল্ডিং মিস্ত্রী বেলাল হোসেন (২৮) ৬ টি এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। করণা দুর্যোগকালীন সময়ে বেলালের স্বাভাবিক আয় একদম কমে যায়। তার পরও তিনি সাধ্যমত কিস্তির টাকা পরি।শোধ করে আসছিলেন। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে এনজিওগুলো কিস্তির টাকা আদায়ের তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। চাপ সইতে না পেরে বেলাল হোসেন আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। একপর্যায়ে ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে পরিবারের সবার অগোচরে প্রথমে বিষ পান করেন এবং পরে লোহা কাটার মেশিন দিয়ে নিজেই নিজের গলা কেটে ফেলেন। লোকজন তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় হাসিনাবাদী হয়ে ওই ছয় এনজিওর ম্যানেজার ও মা কর্মীসহ মোট ১১ জনকে আসামী করে গত বৃহস্পতিবার বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। গত শনিবার মামলা দায়েরের খবর পেয়ে শনিবার বেলা ৩টার দিকে সোসিও ইকোনোমিক ব্যাংকিং অ্যাসোসিয়েশন (সেবা) মাঝিরা শাখার চার কর্মকর্তা তার বাড়িতে আসেন এবং এনজিওর কোটি কোটি টাকা আছে তাই মামলা করে লাভ হবে না বলে হুমকি দিয়ে যান।
এছাড়া অন্যান্য এনজিও প্রতিষ্ঠানের মাঠকর্মীরা গ্রামে কিস্তি আদায় করতে এসে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে মামলার তদন্ত এবং ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে তিনি আশায় রয়েছে।
এনজিও ব্যানারে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম চালিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান মোটাতাজা হলেও সাধারণ জনগণ রক্ত শূন্য হয়ে পড়ছে।
ইংরেজ আমলের নীলচাষ আর বর্তমান সময়ে এনজিওগুলোর ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম একসূত্রে গাঁথা। স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে, এনজিও থেকে কেউ ঋণ নিয়ে ১ টাকা লাভ করতে পেরেছি এরকম একটা ব্যবসা খুঁজে পাওয়া যাবে না। মানুষ টাকার প্রয়োজনের ঋণের কিস্তির ফাঁদে পড়ে। তারপর আর বের হতে পারে না।
অবশেষে এনজিওগুলোর কিস্তির চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে এমন ঘটনা বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলার প্রায়ই ঘটছে। তবে এইসব কোন আত্মহত্যার ঘটনায় তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়না বলে স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়েছে।
স্বামীর মৃত্যুর জন্য দায়ী এনজিওগুলো যেন মামলার তদন্ত এবং বিচার ব্যবস্থা প্রভাবিত করতে না পারে সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন হাসিনা খাতুন। সেইসাথে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা থেকে ৬ এনজিও অফিস গুলো বন্ধের জন্য দাবি করেছেন।
সোসিও ইকোনোমিক ব্যাকিং অ্যাসোসিয়েশন( সেবা) মাঝিরা শাখার ম্যানেজার হেলাল উদ্দিন জানান,কোন হুমকি দেওয়া হয়নি। যা খুশি করুক, কোন সমস্যা নেই ।
উপজেলা নির্বাহি অফিসার মাহমুদা পারভীন জানান, স্মারকলিপি এখনো হাতে পাননি। হাতে পেলে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.